
নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ | ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মেঘালয়ের পাদদেশে হাওরবেষ্টিত দুর্গম জনপদ সুনামগঞ্জ এখন নির্বাচনী জ্বরে কাঁপছে। ৫টি নির্বাচনী এলাকা নিয়ে গঠিত এই জেলায় প্রায় ২৭ লাখ মানুষের দৃষ্টি এখন কালকের ভোটের দিকে। তবে এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন। বড় দল হিসেবে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এবং জাতীয় পার্টির ঝিমিয়ে পড়া প্রচারণার সুযোগে মূল লড়াইয়ে উঠে এসেছে জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা।
সুনামগঞ্জ-১: নাটকীয় মনোনয়ন বদল ও ভোটের মেরুকরণ
এই আসনে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা সবচেয়ে বেশি। বছরেরও বেশি সময় ধরে মাঠ গুছিয়েছিলেন আনিসুল হক। কিন্তু একেবারে অন্তিম সময়ে কামরুজ্জামান কামরুলকে দলীয় প্রতীক দেওয়ায় ক্ষুব্ধ আনিসুল হকের বিশাল কর্মী বাহিনী। গুঞ্জন রয়েছে, এই বিশাল ভোটব্যাংক কাল ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে, যা বিএনপির প্রার্থীর জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার): ঐক্যের পরেও চ্যালেঞ্জ
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী দলীয় প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনকে সমর্থন দিলেও লড়াই এখনো সহজ হয়নি। অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ধানের শীষকে জেতানোই এখন বড় পরীক্ষা মিলনের জন্য।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা): আলোচনায় ব্যারিস্টার শিশির মনির
একসময়ের জনপ্রিয় নেতা ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী নাসির চৌধুরী শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রচারণায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মাঠে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর হেভিওয়েট প্রার্থী ব্যারিস্টার শিশির মনির। ফলে এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল।
রাত পোহালেই ভোট। শহর থেকে শুরু করে হাওরের দুর্গম গ্রামগুলোতেও এখন পরিবর্তনের সুর। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন প্রার্থী ও বিকল্প ভাবনার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ-১, ২ ও ৫ আসনে জামায়াত প্রার্থীরা যেভাবে বিএনপির প্রার্থীদের সাথে পাল্লা দিচ্ছেন, তাতে ফলাফল কোন দিকে যাবে তা বলা মুশকিল।
বিশেষজ্ঞ মতামত:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুনামগঞ্জের ৫টি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিদ্রোহী ও জামায়াত প্রার্থীদের জনপ্রিয়তাকে টেক্কা দিতে না পারলে ধানের শীষের জন্য বিজয় ছিনিয়ে আনা বেশ কঠিন হতে পারে।