1. : lf_iXUbzcmHdbyi :
  2. live@www.newsone-1.com : NEWS ONE-1 : NEWS ONE-1
  3. info@www.newsone-1.com : NEWS ONE-1 :
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০১ অপরাহ্ন

একটি শিশুর মরদেহ ও বাবার ছয় বছরের নিরবতা: মিরসরাইয়ে কান্নার আড়ালে কোন রহস্য?

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

একটি শিশুর মরদেহ ও বাবার ছয় বছরের নিরবতা: মিরসরাইয়ে কান্নার আড়ালে কোন রহস্য?

ডেস্ক রিপোর্ট : রাত প্রায় ১২টা। মিরসরাই থানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সকে ঘিরে জমাট বেঁধেছে রহস্য আর কান্না। ভেতরে ১০ বছরের শিশু আরাফাতের নিথর দেহ, আর বাইরে তার মামা ফিরোজ আহাম্মদের আহাজারি। দুপুরে পুকুরে ডুবে মারা যাওয়া একটি শিশুর দাফন কেন মাঝপথে আটকে গেল? কেনই বা প্রিয় সন্তানের মৃত্যুতে শোকের বদলে ‘তদন্তের লড়াই’ বড় হয়ে উঠল?

ঘটনার সূত্রপাত: এক দুপুরের দুর্ঘটনা

​শুক্রবার দুপুরে মান্দারবাড়িয়া গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে যায় শিশু আরাফাত। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাধারণ এক শোকাতুর পরিবেশ নিমিষেই বদলে যায় যখন কাতার থেকে ফোনের ওপার থেকে ভেসে আসে বাবার কণ্ঠ— “এটি হত্যা, আমি ময়নাতদন্ত চাই।”

কেন এই আইনি নাটক?

​আরাফাতের বাবা আকতার হোসেন এবং চাচা মাঈন উদ্দিনের দাবি, আরাফাতকে তার মামা ফিরোজ আহাম্মদ হত্যা করেছেন। কিন্তু স্থানীয়দের মনে কিছু তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে:

  • ​যে বাবা গত ৬ বছর ধরে একবারের জন্যও সন্তানের খবর নেননি, ছেলের মৃত্যুর পর কেন তিনি ময়নাতদন্তের দাবিতে এতটা সোচ্চার?
  • ​কেন সেই মামাকেই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যিনি মায়ের মৃত্যুর পর আরাফাতকে ছায়ার মতো আগলে রেখে বড় করেছেন?

পুরানো ক্ষত: ২০২০ সালের সেই হত্যাকাণ্ড:

​ঘটনার গভীরে উঁকি দিলে বেরিয়ে আসছে চার বছর আগের এক রক্তাক্ত ইতিহাস। ২০২০ সালে আরাফাতের মা কুলসুমা আক্তার মুন্নী শ্বশুরবাড়িতে নিহত হয়েছিলেন। সে সময় মুন্নীর পরিবার দাবি করেছিল সেটি হত্যাকাণ্ড, যার প্রেক্ষিতে মামলা করেছিলেন এই মামা ফিরোজ আহাম্মদ। অভিযুক্ত ছিলেন স্বয়ং আরাফাতের বাবা আকতার হোসেন।

স্থানীয়দের ধারণা: স্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে দায়ের করা সেই মামলা থেকে বাঁচতে কিংবা পাল্টা চাপ সৃষ্টি করতেই কি এখন ছেলের মৃত্যুকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছেন প্রবাসী বাবা?

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

​মিরসরাই থানার ওসি ফরিদা ইয়াসমিন জানান, বাবার আপত্তির কারণে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তরের সুযোগ নেই। আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দাফন স্থগিত থাকবে।

দৃষ্টিভঙ্গি: এটি কেবল একটি পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা নয়; বরং বছরের পর বছর জমে থাকা পারিবারিক প্রতিহিংসার এক করুণ বলি হলো ১০ বছরের শিশু আরাফাত। বিচারহীনতার সংস্কৃতি আর প্রতিশোধের নেশায় এক শিশুর শেষ বিদায়টাও এখন আইনি মারপ্যাঁচে বন্দী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট