
ডেস্ক রিপোর্ট : রাত প্রায় ১২টা। মিরসরাই থানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সকে ঘিরে জমাট বেঁধেছে রহস্য আর কান্না। ভেতরে ১০ বছরের শিশু আরাফাতের নিথর দেহ, আর বাইরে তার মামা ফিরোজ আহাম্মদের আহাজারি। দুপুরে পুকুরে ডুবে মারা যাওয়া একটি শিশুর দাফন কেন মাঝপথে আটকে গেল? কেনই বা প্রিয় সন্তানের মৃত্যুতে শোকের বদলে 'তদন্তের লড়াই' বড় হয়ে উঠল?
শুক্রবার দুপুরে মান্দারবাড়িয়া গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে যায় শিশু আরাফাত। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাধারণ এক শোকাতুর পরিবেশ নিমিষেই বদলে যায় যখন কাতার থেকে ফোনের ওপার থেকে ভেসে আসে বাবার কণ্ঠ— "এটি হত্যা, আমি ময়নাতদন্ত চাই।"
আরাফাতের বাবা আকতার হোসেন এবং চাচা মাঈন উদ্দিনের দাবি, আরাফাতকে তার মামা ফিরোজ আহাম্মদ হত্যা করেছেন। কিন্তু স্থানীয়দের মনে কিছু তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে:
পুরানো ক্ষত: ২০২০ সালের সেই হত্যাকাণ্ড:
ঘটনার গভীরে উঁকি দিলে বেরিয়ে আসছে চার বছর আগের এক রক্তাক্ত ইতিহাস। ২০২০ সালে আরাফাতের মা কুলসুমা আক্তার মুন্নী শ্বশুরবাড়িতে নিহত হয়েছিলেন। সে সময় মুন্নীর পরিবার দাবি করেছিল সেটি হত্যাকাণ্ড, যার প্রেক্ষিতে মামলা করেছিলেন এই মামা ফিরোজ আহাম্মদ। অভিযুক্ত ছিলেন স্বয়ং আরাফাতের বাবা আকতার হোসেন।
স্থানীয়দের ধারণা: স্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে দায়ের করা সেই মামলা থেকে বাঁচতে কিংবা পাল্টা চাপ সৃষ্টি করতেই কি এখন ছেলের মৃত্যুকে 'ঢাল' হিসেবে ব্যবহার করছেন প্রবাসী বাবা?
মিরসরাই থানার ওসি ফরিদা ইয়াসমিন জানান, বাবার আপত্তির কারণে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তরের সুযোগ নেই। আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দাফন স্থগিত থাকবে।
দৃষ্টিভঙ্গি: এটি কেবল একটি পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা নয়; বরং বছরের পর বছর জমে থাকা পারিবারিক প্রতিহিংসার এক করুণ বলি হলো ১০ বছরের শিশু আরাফাত। বিচারহীনতার সংস্কৃতি আর প্রতিশোধের নেশায় এক শিশুর শেষ বিদায়টাও এখন আইনি মারপ্যাঁচে বন্দী।