

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ | ৪ এপ্রিল, ২০২৬
সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। শনিবার (৪ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর ব্যানারে পৃথক দুটি বিশাল গণ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় দিরাই উপজেলার থানা পয়েন্টে প্রথম গণ-সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকেল ৩টায় শাল্লা উপজেলার ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারে দ্বিতীয় দফায় কৃষকরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। সমাবেশে দিরাই ও শাল্লার বিভিন্ন হাওরের প্রান্তিক কৃষকরা অংশ নিয়ে বাঁধ নির্মাণে লুটপাটের চিত্র তুলে ধরেন।
সমাবেশে বক্তারা বাঁধ নির্মাণ প্রক্রিয়ায় পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন থেকে শুরু করে বর্তমান অবস্থা পর্যন্ত বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন:
“অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে আমাদের সোনার ধান আজ পানির নিচে। এই ক্ষতির দায় কে নেবে? যারা কৃষকের হক মেরে খেয়েছে, তাদের বিচার চাই।” > — সমাবেশে বরাম হাওরের এক ভুক্তভোগী কৃষক।
সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ স্পষ্টভাবে জানান যে, দুর্নীতির সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সুনামগঞ্জ থেকে অপসারণ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান না করলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
|
অবস্থান |
প্রধান বক্তা ও নেতৃবৃন্দ |
|---|---|
|
শাল্লা সমাবেশ |
সাইফুর রহমান (সভাপতি), মো. ওবায়দুল হক মিলন, মো. রাজু আহমেদ (জেলা সভাপতি), ওবায়দুল মুন্সী। |
|
দিরাই সমাবেশ |
মোস্তাহার হোসেন মোস্তাক (সভাপতি), উবায়দুল হক (সদস্য সচিব), মামুন আহমদ, কৃষক নেতা এমদাদ সরদার। |
|
প্রান্তিক কৃষক প্রতিনিধি |
তোফায়েল, মির্জা হোসেন, ফরিদ মিয়া, মাহবুব হোসেন, আব্দুল কাদির ও পান্ডব দাশ। |
সমাবেশ শেষে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, হাওরের ফসল রক্ষা করা শুধু কৃষকের বাঁচা-মরার লড়াই নয়, এটি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্ন। এই লুটপাট বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।