দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে (প্রায় সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকা)। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং নগদ অর্থ আদায় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে একগুচ্ছ বৈপ্লবিক সংস্কার প্রস্তাব জমা দিয়েছে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি।
✈️ ১. বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ও সামাজিক চাপ
খেলাপিদের বিলাসিতা ও পলায়ন রোধে এবিবি’র প্রধান দাবিগুলো হলো:
আদালতের অনুমতি ছাড়া ঋণখেলাপিদের বিদেশযাত্রায় সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ।
জনসম্মুখে ঋণখেলাপিদের নাম ও ছবি প্রকাশ করার অনুমতি।
কোনো প্রকার ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ বন্ধ করা।
⚖️ ২. আইনি ও বিচারিক সংস্কার
মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং রায় কার্যকরের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে:
উচ্চ আদালত থেকে স্টে-অর্ডার নেওয়ার ক্ষেত্রে কিস্তিভিত্তিক অর্থ প্রদানের কঠোর শর্ত যুক্ত করা।
আদালতে যাওয়ার আগেই নির্দিষ্ট পরিমাণ ডাউনপেমেন্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা।
খেলাপিদের জন্য দেওয়ানি আটকাদেশের মেয়াদ ৬ মাস থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৭ বছর করা।
অধিক খেলাপি এলাকাগুলোতে পৃথক অর্থঋণ আদালত স্থাপন।
🏠 ৩. বন্ধকী সম্পদ বিক্রিতে সহজীকরণ
নিলাম প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে ব্যাংকগুলো চেয়েছে:
নিলামে কেনা বা বিক্রয় করা সম্পত্তির ওপর থেকে সব ধরনের আয়কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার।
জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের জটিলতা নিরসন।
বন্ধকদাতার অনুপস্থিতিতেই জমির খাজনা ও জরিপ সম্পন্ন করার সুযোগ।
📉 ৪. ঋণ আদায় ও মওকুফে বিশেষ ছাড়
ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য মানবিক কিছু প্রস্তাবও রয়েছে:
মরণব্যাধি, মৃত্যু বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষেত্রে সুদ মওকুফ ও দ্রুত ঋণ আদায়ের বিশেষ ব্যবস্থা।
বর্তমান চিত্র: সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৩৫.৭৩% এখন খেলাপি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্বচ্ছ হিসাবায়ন শুরু হওয়ায় খেলাপি ঋণের এই প্রকৃত ও ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠছে।