নেতৃত্বের সংকটে ইরান: আলী লারিজানির হাতে ‘অস্থায়ী’ ক্ষমতার চাবিকাঠি
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত:
রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬
১৩২
বার পড়া হয়েছে
নেতৃত্বের সংকটে ইরান: আলী লারিজানির হাতে ‘অস্থায়ী’ ক্ষমতার চাবিকাঠি
ডেস্ক রিপোর্ট :
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের এই পারমাণবিক শক্তিধর দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। শনিবারের সেই ভয়াবহ হামলার পর আজ রোববার অভিজ্ঞ রাজনীতিক আলী লারিজানি দেশে একটি ‘অস্থায়ী পরিচালনা পরিষদ’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
খামেনি-উত্তর ইরান ও লারিজানির উত্থান
গত এক বছরে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনীতিতে আলী লারিজানি হয়ে উঠেছেন এক অপরিহার্য নাম। বর্তমানে তাকেই দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার এই উত্থানের পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে:
নিরাপত্তা ও দমননীতি: দেশের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি নিজের ক্ষমতা সুসংহত করেছেন।
কূটনৈতিক তদারকি: একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে পরমাণু চুক্তির আলোচনা—উভয় ক্ষেত্রেই তিনি প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন।
অভিজাত পারিবারিক পটভূমি: ইরানের প্রভাবশালী ধর্মীয় পরিবারে জন্ম হওয়ায় শাসনব্যবস্থার ভেতর ও বাইরে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও লারিজানির হুঁশিয়ারি
আজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে লারিজানি বর্তমান সংকটের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন। ভাষণে উঠে আসা মূল বিষয়গুলো হলো:
প্রতিশোধ ও প্রতিরোধ: খামেনির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদুর রহিম মুসাভিও নিহত হওয়ায় ইরানের সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। লারিজানি একে ইরানকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অভ্যন্তরীণ সতর্কতা: বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
অস্থায়ী পরিষদ: ক্ষমতার পালাবদল সুশৃঙ্খল রাখতে দ্রুত একটি অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
”দেশ যখন কঠিন সময় পার করছে, তখন কোনো বিচ্যুতি সহ্য করা হবে না। ইরানকে দুর্বল করার যেকোনো চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।” — আলী লারিজানি
বিশ্লেষণ: কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ?
আয়াতুল্লাহ খামেনির অনুপস্থিতিতে লারিজানির এই অগ্রণী ভূমিকা নির্দেশ করছে যে, ইরান সম্ভবত একটি রক্ষণশীল অথচ কৌশলগত নেতৃত্বের দিকে এগোচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার মুখে এই ‘অস্থায়ী পরিচালনা পরিষদ’ কতটা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।