1. live@www.newsone-1.com : NEWS ONE-1 : NEWS ONE-1
  2. info@www.newsone-1.com : NEWS ONE-1 :
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
র‍্যাব (RAB)-এর নতুন নাম: ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ শিক্ষা আইনের খসড়া: সংস্কার নাকি পুরনো আইনের পুনরাবৃত্তি? ​আদর্শের বিচ্যুতি ও অপকর্মের অভিযোগ: তাহিরপুর বিএনপি ও শ্রমিকদল নেতার পদত্যাগ ​এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া পরিশোধ: ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিল জমার নির্দেশ বিশ্বকাপে পাকিস্তান আছে, তবে নেই ভারত-পাক মহারণ! ভোটার স্থানান্তর ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ইসিতে বিএনপির একগুচ্ছ অভিযোগ নির্বাচন ঘিরে আর্থিক লেনদেনে কড়াকড়ি: মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে নতুন সীমা ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, মা-বোনদের সতর্ক থাকতে হবে: তারেক রহমান নাইকো মামলা: পাহাড়সম দাবির বিপরীতে নগণ্য প্রাপ্তি ​নির্বাসন ও নিষেধাজ্ঞা: খাদের কিনারায় কি বাংলাদেশের প্রাচীনতম দল?

বাংলাদেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান: বছরে আর্থিক ক্ষতি ৫ হাজার কোটি টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান: বছরে আর্থিক ক্ষতি ৫ হাজার কোটি টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট :

​দেশে সন্তান জন্মদানে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বুধবার আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতাল (AWCH) আয়োজিত ‘রিডিউসিং আননেসেসারি সিজারিয়ান সেকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সভায় এই সংকটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়।

মূল পরিসংখ্যান (২০২৫)

  • মোট জন্ম: প্রায় ৩৫ লাখ শিশু।
  • অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার: ১৬ লাখ ৮০ হাজার।
  • আর্থিক ক্ষতি: বছরে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।

বেসরকারি হাসপাতালের উদ্বেগজনক ভূমিকা

​গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি হাসপাতালের তুলনায় বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারের হার অস্বাভাবিক বেশি।

  • বিশ্বব্যাপী গড়: প্রতি ৫টি শিশুর মধ্যে ১টি (২১%)।
  • বাংলাদেশে গড়: প্রতি ২টিতে ১টি (৪৫-৫২%)।
  • বেসরকারি ক্লিনিক: প্রতি ১০টি শিশুর মধ্যে ৮-৯টিই সিজারের মাধ্যমে জন্মায় (৮৫-৯০%)।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ৭০ শতাংশেরই পর্যাপ্ত তদারকি নেই। অনেক ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল বা মানসম্মত প্রসবকক্ষ না থাকায় আর্থিক লাভকে অগ্রাধিকার দিয়ে অস্ত্রোপচারকেই সহজ সমাধান হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে।

ঝুঁকি ও নেতিবাচক প্রভাব:

​অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগম জানান, স্বাভাবিক প্রসবকে মায়েদের কাছে ইচ্ছাকৃতভাবে ভয়ংকর বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এর ফলে মায়েরা অযৌক্তিক ভয়ে সিজার বেছে নিচ্ছেন।​

স্বাস্থ্য ঝুঁকি: মা ও শিশু উভয়েই দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।​

মায়ের মৃত্যু: নব্বইয়ের দশকে অস্ত্রোপচার না পেয়ে মা মারা যেতেন, এখন অতিরিক্ত অস্ত্রোপচারের কারণে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে।​

শিশুর বঞ্চনা: সিজারের ফলে শিশু জন্মের পরপরই মায়ের শরীরের স্পর্শ (Skin-to-skin contact) ও প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত হয়।

সাফল্যের মডেল: আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতাল:

​অস্ত্রোপচার কমানো যে সম্ভব, তার প্রমাণ দিয়েছে আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতাল। তারা বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নিয়ে সিজারের হার ৭২% থেকে ৪২%-এ নামিয়ে এনেছে। তাদের কৌশলগুলো হলো:

  • ​প্রসব-পূর্ব কাউন্সেলিং।
  • ​সঠিক লেবার মনিটরিং ও অডিট।
  • ​আগে সিজার হলেও পরে স্বাভাবিক প্রসব (VBAC) পদ্ধতি উৎসাহিত করা।

ভবিষ্যৎ সতর্কতা:

​সভায় জানানো হয়, ১৯৯৯ সালে হাসপাতালে প্রসবের ৩০% ছিল অস্ত্রোপচার, যা ২০২২ সালে দাঁড়িয়েছে ৬৯%-এ। যদি এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে হাসপাতালে সন্তান প্রসবের ৯০ শতাংশই অস্ত্রোপচারে রূপ নিতে পারে।

​”বাস্তবতা হলো দেশে এখন আর স্বাভাবিক প্রসব নেই বললেই চলে। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এই গাফিলতি বন্ধ হওয়া জরুরি।”

মো. সাঈদুর রহমান, সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট