আদর্শের বিচ্যুতি ও অপকর্মের অভিযোগ: তাহিরপুর বিএনপি ও শ্রমিকদল নেতার পদত্যাগ
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত:
সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
২২১
বার পড়া হয়েছে
আদর্শের বিচ্যুতি ও অপকর্মের অভিযোগ: তাহিরপুর বিএনপি ও শ্রমিকদল নেতার পদত্যাগ
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন এবং উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি ফেরদৌস আলম দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক পথচলার ইতি টেনে তারা দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শিক বিচ্যুতির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
পদত্যাগের নেপথ্যে যেসব কারণ:
পদত্যাগকারী নেতারা তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের বঞ্চনা এবং বর্তমান পরিস্থিতির কিছু তিক্ত কারণ উল্লেখ করেছেন:
দীর্ঘ ত্যাগ ও নির্যাতন: তারা জানান, ২৫ বছর আগে সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেনের হাত ধরে বিএনপিতে যোগদানের পর থেকে তারা জাতীয়তাবাদের আদর্শে অবিচল ছিলেন। গত ১৭ বছরের আওয়ামী শাসনামলে জেল-জুলুম, নির্যাতন এবং আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েও দল ত্যাগ করেননি।
অপকর্ম ও লুটপাটের অভিযোগ: তাদের দাবি, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপির কিছু প্রভাবশালী নেতা লুটপাটসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন।যাদুকাটা বালুমহালে লুটপাট, রক্তি,পাটলাই,বৌলাই নদীতে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি। নদীতীরবর্তী ঘাগটিয়া গ্রামের বাঁশঝাড় এলাকা সহ প্রায় দুই কি.মি. এলাকা বালু লুটের জন্য ইতিমধ্যেই কিনে রেখেছে দলীয় নেতাকর্মীরা। সীমান্তের তিনটি শুল্ক স্টেশন চারাগাঁও, ও বড়ছড়ায় চলছে লুটের মহোৎসব। প্রাকৃতিক ভূ-স্বর্গ টাঙ্গুয়ার হাওরের মৎস্য সম্পদ ও বৃক্ষরাজি, পশুপাখি,কান্দার মাটি কোন কিছুই রেহাই পাচ্ছে না। আমরা মনে করি এই সমস্ত অপকর্ম কোন ভাবেই বিএনপির আদর্শের সাথে যায় না।
আওয়ামী দোসরদের সাথে আঁতাত: দলের একাংশ নেতার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ‘দোসরদের’ সাথে ব্যবসায়িক ভাগ-বাঁটোয়ারা এবং অনৈতিক সখ্যতার অভিযোগ তুলেছেন তারা। তাদের মতে, এসব দেখেও দলের ভেতরে কেউ ভয়ে মুখ খুলছে না। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন এবং ‘হ্যাঁ ভোট’ কেন্দ্রিক কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে দলের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
সোমবার বিকালে তাহিরপুর সদরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপি থেকে পদত্যাগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন বিএনপি নেতা রুহুল আমীন ও ফেরদৌস আলম।
দলের ওপর প্রভাব:
তৃণমূলের এই দুই নেতার পদত্যাগের ফলে তাহিরপুর বিএনপিতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, নৈতিক অবস্থান থেকে এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনার সাথে সংহতি জানাতেই তারা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।