
ডেস্ক রিপোর্ট :
দেশে সন্তান জন্মদানে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বুধবার আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতাল (AWCH) আয়োজিত ‘রিডিউসিং আননেসেসারি সিজারিয়ান সেকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সভায় এই সংকটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি হাসপাতালের তুলনায় বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারের হার অস্বাভাবিক বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ৭০ শতাংশেরই পর্যাপ্ত তদারকি নেই। অনেক ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল বা মানসম্মত প্রসবকক্ষ না থাকায় আর্থিক লাভকে অগ্রাধিকার দিয়ে অস্ত্রোপচারকেই সহজ সমাধান হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে।
অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগম জানান, স্বাভাবিক প্রসবকে মায়েদের কাছে ইচ্ছাকৃতভাবে ভয়ংকর বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এর ফলে মায়েরা অযৌক্তিক ভয়ে সিজার বেছে নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি: মা ও শিশু উভয়েই দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।
মায়ের মৃত্যু: নব্বইয়ের দশকে অস্ত্রোপচার না পেয়ে মা মারা যেতেন, এখন অতিরিক্ত অস্ত্রোপচারের কারণে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে।
শিশুর বঞ্চনা: সিজারের ফলে শিশু জন্মের পরপরই মায়ের শরীরের স্পর্শ (Skin-to-skin contact) ও প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত হয়।
অস্ত্রোপচার কমানো যে সম্ভব, তার প্রমাণ দিয়েছে আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতাল। তারা বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নিয়ে সিজারের হার ৭২% থেকে ৪২%-এ নামিয়ে এনেছে। তাদের কৌশলগুলো হলো:
সভায় জানানো হয়, ১৯৯৯ সালে হাসপাতালে প্রসবের ৩০% ছিল অস্ত্রোপচার, যা ২০২২ সালে দাঁড়িয়েছে ৬৯%-এ। যদি এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে হাসপাতালে সন্তান প্রসবের ৯০ শতাংশই অস্ত্রোপচারে রূপ নিতে পারে।
"বাস্তবতা হলো দেশে এখন আর স্বাভাবিক প্রসব নেই বললেই চলে। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এই গাফিলতি বন্ধ হওয়া জরুরি।"
— মো. সাঈদুর রহমান, সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।