1. live@www.newsone-1.com : NEWS ONE-1 : NEWS ONE-1
  2. info@www.newsone-1.com : NEWS ONE-1 :
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
র‍্যাব (RAB)-এর নতুন নাম: ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ শিক্ষা আইনের খসড়া: সংস্কার নাকি পুরনো আইনের পুনরাবৃত্তি? ​আদর্শের বিচ্যুতি ও অপকর্মের অভিযোগ: তাহিরপুর বিএনপি ও শ্রমিকদল নেতার পদত্যাগ ​এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া পরিশোধ: ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিল জমার নির্দেশ বিশ্বকাপে পাকিস্তান আছে, তবে নেই ভারত-পাক মহারণ! ভোটার স্থানান্তর ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ইসিতে বিএনপির একগুচ্ছ অভিযোগ নির্বাচন ঘিরে আর্থিক লেনদেনে কড়াকড়ি: মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে নতুন সীমা ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, মা-বোনদের সতর্ক থাকতে হবে: তারেক রহমান নাইকো মামলা: পাহাড়সম দাবির বিপরীতে নগণ্য প্রাপ্তি ​নির্বাসন ও নিষেধাজ্ঞা: খাদের কিনারায় কি বাংলাদেশের প্রাচীনতম দল?

হাওর রক্ষায় কঠোর ‘সুরক্ষা কবচ’: নতুন অধ্যাদেশে জেল-জরিমানার কড়া বার্তা

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৯৮ বার পড়া হয়েছে

হাওর রক্ষায় কঠোর ‘সুরক্ষা কবচ’: নতুন অধ্যাদেশে জেল-জরিমানার কড়া বার্তা

ডেস্ক রিপোর্ট :

​দেশের বিপন্ন হাওর ও জলাভূমির অস্তিত্ব রক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অবৈধ দখল, ভরাট এবং পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারীদের রুখতে জারি করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’। গত ১৪ জানুয়ারি আইন মন্ত্রণালয় এই সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে, যা অবিলম্বে সারা দেশে কার্যকর হবে।

১. অপরাধ ও শাস্তির বিধান: কঠোর অবস্থানে সরকার:

​নতুন এই অধ্যাদেশে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী কঠোর দণ্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে:

  • সর্বোচ্চ সাজা: ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ টাকা জরিমানা (বা উভয় দণ্ড)।
  • অপরাধের ধরন: জলাভূমি দখল, কান্দা ভরাট, অননুমোদিত খনন এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা।
  • আইনি কড়াকড়ি: এই অধ্যাদেশের আওতাধীন অপরাধগুলো ‘আমলযোগ্য’ এবং ‘অ-জামিনযোগ্য’ হিসেবে গণ্য হবে।

২. যেসব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে:

​প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এই অধ্যাদেশ বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে:

  • ​অনিয়ন্ত্রিতভাবে পানি উত্তোলন এবং মাটি, বালু বা পাথর আহরণ।
  • ​পরিযায়ী (অতিথি) পাখি ও সংরক্ষিত জলজ প্রাণী শিকার।
  • ​জলাবন বিনষ্ট করা এবং বিষটোপ, কারেন্ট জাল বা ক্ষতিকর সরঞ্জাম দিয়ে মাছ ধরা।

৩. ক্ষমতায়ন: বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর

​এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর’কে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে:

  • বাধ্যতামূলক মতামত: এখন থেকে হাওর এলাকায় যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে এই অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হবে।
  • প্রকল্প যাচাই: প্রস্তাবিত প্রকল্পের ফলে পরিবেশ বা স্থানীয়দের জীবিকার ক্ষতি হবে কি না, তা অধিদপ্তর নিশ্চিত করবে।
  • অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ: সরকার কোনো হাওরকে ‘সংরক্ষিত এলাকা’ ঘোষণা করলে, সেখানে থাকা ক্ষতিকর স্থাপনা অধিদপ্তর সরাসরি অপসারণ করতে পারবে।

৪. মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা ও পরিবেশকর্মীদের প্রত্যাশা

​পরিবেশ ও মানবাধিকার উন্নয়নকর্মী সারোয়ার জাহান এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, জাদুকাটা নদী এবং ভান্ডার খালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়গুলো দখল ও বালু-পাথর লুটের কারণে আজ বিপন্ন। নতুন এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা গেলে নদী ও হাওরের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

​তবে উদ্বেগের চিত্রও ফুটে উঠেছে গ্রীন বাংলাদেশ বিডি-র পর্যবেক্ষণে। সংগঠনটির মতে, গত ১৭ বছর ধরে টাঙ্গুয়ার হাওর ও সংলগ্ন নদীগুলোতে উচ্চ আদালতের ভুল তথ্য দিয়ে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পাথর ভাঙার ক্রাশার মেশিন চালানো হচ্ছে। এর ফলে শব্দ ও পানি দূষণ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা মা মাছের প্রজনন ও পরিযায়ী পাখিদের বিচরণকে বাধাগ্রস্ত করছে। নতুন অধ্যাদেশ এই দীর্ঘমেয়াদী অনিয়মগুলো বন্ধ করতে পারবে বলে সাধারণ মানুষ আশাবাদী।

মূল লক্ষ্য: সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই কঠোর অধ্যাদেশের মূল উদ্দেশ্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট