
ডেস্ক রিপোর্ট :
দেশের বিপন্ন হাওর ও জলাভূমির অস্তিত্ব রক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অবৈধ দখল, ভরাট এবং পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারীদের রুখতে জারি করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’। গত ১৪ জানুয়ারি আইন মন্ত্রণালয় এই সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে, যা অবিলম্বে সারা দেশে কার্যকর হবে।
নতুন এই অধ্যাদেশে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী কঠোর দণ্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে:
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এই অধ্যাদেশ বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে:
এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর’কে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে:
পরিবেশ ও মানবাধিকার উন্নয়নকর্মী সারোয়ার জাহান এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, জাদুকাটা নদী এবং ভান্ডার খালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়গুলো দখল ও বালু-পাথর লুটের কারণে আজ বিপন্ন। নতুন এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা গেলে নদী ও হাওরের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
তবে উদ্বেগের চিত্রও ফুটে উঠেছে গ্রীন বাংলাদেশ বিডি-র পর্যবেক্ষণে। সংগঠনটির মতে, গত ১৭ বছর ধরে টাঙ্গুয়ার হাওর ও সংলগ্ন নদীগুলোতে উচ্চ আদালতের ভুল তথ্য দিয়ে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পাথর ভাঙার ক্রাশার মেশিন চালানো হচ্ছে। এর ফলে শব্দ ও পানি দূষণ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা মা মাছের প্রজনন ও পরিযায়ী পাখিদের বিচরণকে বাধাগ্রস্ত করছে। নতুন অধ্যাদেশ এই দীর্ঘমেয়াদী অনিয়মগুলো বন্ধ করতে পারবে বলে সাধারণ মানুষ আশাবাদী।
মূল লক্ষ্য: সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই কঠোর অধ্যাদেশের মূল উদ্দেশ্য।