
দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকার বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার দেনা রেখে গিয়েছে এবং জ্বালানি আমদানির অবকাঠামো তৈরি করেনি। আমরা ক্ষমতায় আসার পর বাপেক্সকে দেশের মাটিতে গ্যাস খননের নির্দেশ দিয়েছি। দুর্ঘটনাজনিত কারণে একটি এলএনজি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িক সমস্যা হচ্ছে, যা দ্রুতই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা জনগণের সামনে প্রতিজ্ঞা করেছেন দেশ গঠনের জন্য কাজ করবেন। কাজেই বিভ্রান্তির রাজনীতি বাদ দেন, হঠকারিতার রাজনীতি বাদ দেন। আসেন জনগণের জন্য কী করতে পারবেন কী পরামর্শ আপনাদের থলের মধ্যে আছে সেটি জনগণের সামনে তুলে ধরেন। বিশৃঙ্খলা তৈরি করার দিন শেষ, জনগণ এখন সেই রাজনীতি আর সমর্থন করে না।
বিভ্রান্তির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসুন, এইসব মিথ্যার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসুন, এইসব উসকানি দেওয়ার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসুন। সত্যিকারভাবে জনগণের কাজ হতে পারে, সত্যিকারভাবে দেশ এগিয়ে যেতে পারে এরকম যদি কোনো পরিকল্পনা আপনাদের কাছে থাকে, এরকম যদি কোনো চিন্তাভাবনা আপনাদের কাছে থাকে, সংসদে উপস্থাপন করুন, জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। সেই পরিকল্পনা যদি ভালো হয়, সেই পরিকল্পনা যদি বাস্তবসম্মত হয়, সেই পরিকল্পনা যদি দেশ এবং দেশের মানুষের উপকার করে অবশ্যই আমরা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের যে ৪০ কোটি হাত আছে, সেগুলোকে শ্রমিকের নয় বরং দক্ষ কর্মীর হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। আমি নিজে কী পেলাম সেটি বড় কথা নয়, আমি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কী করতে পারলাম—সেটিই বড় সার্থকতা।’
বক্তব্যের শেষে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়ার দেশপ্রেমের পথ ধরে বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার শপথ ব্যক্ত করেন।
নি.ও ডেস্ক রিপোর্ট :