ভোটার বয়স ১৬, তরুণ ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক বড় প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ৩৬ দফার ইশতেহার এনসিপি’র
ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রকাশিত:
শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬
১০৬
বার পড়া হয়েছে
ভোটার বয়স ১৬, তরুণ ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক বড় প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ৩৬ দফার ইশতেহার এনসিপি’র
ডেস্ক রিপোর্ট :
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ ঘোষণা করেছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর গুলশানে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৩৬ দফার এই ইশতেহার জনসমক্ষে আনা হয়।
এনসিপির এই নির্বাচনী অঙ্গীকারের মূল উপজীব্য এবং উল্লেখযোগ্য দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
এনসিপি তাদের ইশতেহারে তরুণ প্রজন্মের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। দলটির উল্লেখযোগ্য কিছু প্রস্তাব হলো:
ভোটাধিকারের বয়স ১৬: বর্তমানে ১৮ বছর থাকলেও, তা কমিয়ে ১৬ করার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।
১ কোটি কর্মসংস্থান: আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশে ১ কোটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রিভার্স ব্রেন ড্রেইন: এককালীন বিশেষ তহবিল দিয়ে প্রবাসী মেধাবী গবেষকদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক: উচ্চশিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের সেতুবন্ধনে স্নাতক পর্যায়ে ৬ মাসের ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করা হবে।
অর্থনীতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ:
ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা এবং সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরাতে দলটির পরিকল্পনা:
চাঁদাবাজি বন্ধ: ব্যবসার রাজনৈতিক ব্যয় কমাতে চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ এবং ৯৯৯-এর মতো বিশেষ হটলাইন চালুর প্রতিশ্রুতি।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং কর-জিডিপি অনুপাত ১২ শতাংশে উন্নীত করা।
ঋণখেলাপিদের শাস্তি: ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও রাজনৈতিক অধিকার প্রত্যাহারের কঠোর বিধান।
সুশাসন ও বিচারিক সংস্কার
বিগত সরকারের আমলের অপরাধের বিচার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এনসিপির অঙ্গীকার:
বিচারের নিশ্চয়তা: জুলাই গণহত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড ও গুমসহ সব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠন।
সম্পদের হিসাব: মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি কর্মকর্তাদের বাৎসরিক সম্পদের হিসাব ‘হিসাব দাও’ পোর্টালে জনসমক্ষে প্রকাশ।
আমলাতান্ত্রিক সংস্কার: সরকারি চাকরিতে শতভাগ পদোন্নতি হবে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে।
স্বাস্থ্য ও নারী অধিকার
ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড: এনআইডি ভিত্তিক ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড এবং পর্যায়ক্রমে সবার জন্য স্বাস্থ্য বিমা নিশ্চিত করা।
নারী ক্ষমতায়ন: জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষে ১০০টি সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
ছুটির নিয়ম: ৬ মাস মাতৃত্বকালীন এবং ১ মাস পিতৃত্বকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা।
প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি
সীমান্ত ইস্যু ও পানি বণ্টন: ভারতের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যা এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি।
সামরিক আধুনিকায়ন: সশস্ত্র বাহিনীর জন্য রিজার্ভ ফোর্স গঠন এবং সেনাবাহিনীতে ড্রোন ব্রিগেড ও মিসাইল ব্যাটারি যুক্ত করা।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
অনুষ্ঠানে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করেন যে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটের সঙ্গে তারা যুক্ত হলেও তাদের মূল লক্ষ্য ‘নতুন বন্দোবস্ত’ ও সংস্কার বাস্তবায়ন করা। এই জোটকে তিনি মূলত একটি ‘নির্বাচনী জোট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতা ছাড়াও বিশিষ্ট চিন্তক ফরহাদ মজহার, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।