
বিশেষ প্রতিবেদক | ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য নাম বেগম খালেদা জিয়া। যিনি সাধারণ এক গৃহবধূ থেকে হয়ে উঠেছিলেন রাজপথের ‘দেশনেত্রী’। তিনবারের এই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট জলপাইগুড়িতে জন্ম নেন খালেদা খানম পুতুল। তাঁর বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদার। শৈশব কেটেছে দিনাজপুরে, যেখানে সেন্ট জোসেফ কনভেন্ট স্কুলে তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয়। ১৯৬০ সালে তিনি তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর দলের চরম সংকটময় মুহূর্তে রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। নয় বছরের দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন সম্মুখসারির নেত্রী। কোনো রক্তচক্ষু বা কারাবরণ তাঁকে পিছু হটাতে পারেনি, যার ফলে তিনি লাভ করেন ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধি।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর শাসনকালেই বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন ঘটে।
|
সময়কাল |
গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও অর্জন |
|---|---|
|
১৯৯১ – ১৯৯৬ |
মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা। মূল্য সংযোজন কর (VAT) প্রবর্তন। |
|
১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি) |
সংক্ষিপ্ত মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন। |
|
২০০১ – ২০০৬ |
চারদলীয় জোট সরকারের নেতৃত্বে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়া। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে ভূমিকা। |
২০১৮ সাল থেকে আইনি জটিলতা ও কারাবন্দী জীবনের শুরু হয় তাঁর। পরবর্তী সময়ে সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেলেও অসুস্থতা তাঁকে জনসম্মুখ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি সম্পূর্ণ মুক্তি লাভ করেন। ২০২৫ সালের শুরুতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য গেলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পুনরায় দেশে ফিরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি নেত্রী। তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসন শেষে বড় ছেলে তারেক রহমান দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পরেই তাঁর এই চিরবিদায় এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
”আমি ক্ষমতার রাজনীতি করি না, আমি করি মানুষের ভালোবাসার রাজনীতি।” — বেগম খালেদা জিয়া