সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালে নাইকোর খননকালীন দুটি বিস্ফোরণে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছিল, তার বিচারিক লড়াই শেষ পর্যায়ে। আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত (ইকসিড) নাইকোকে দায়ী করে রায় দিলেও ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
১. প্রাপ্তি বনাম দাবি: একটি তুলনামূলক চিত্র:
বাংলাদেশ সরকার পরিবেশ ও সম্পদের ক্ষতির বিপরীতে যে পরিমাণ অর্থ দাবি করেছিল, প্রাপ্তি তার মাত্র ৪ শতাংশের কাছাকাছি।
২. কেন এই অসন্তোষ?
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই বিশাল ব্যবধানের পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে:
আইনি দুর্বলতা: তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির সাবেক সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদের মতে, শুরু থেকেই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ এবং মামলা পরিচালনায় গাফিলতি ও দুর্বলতা ছিল।
হিসাবের গরমিল: নাইকো দাবি করেছিল মাত্র ৩০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পুড়েছে, যেখানে বাংলাদেশের দাবি ছিল ক্ষতির পরিমাণ ২৪ হাজার ২০০ কোটি ঘনফুট।
মামলা পরিচালনার ব্যয়: সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ বছর ধরে এই মামলা চালাতে গিয়ে বাংলাদেশের যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ তার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
৩. ইতিবাচক দিক: নৈতিক জয়:
ক্ষতিপূরণের অঙ্ক কম হলেও বিশেষজ্ঞরা এটিকে একটি ‘নৈতিক বিজয়’ হিসেবে দেখছেন। কারণ:
আন্তর্জাতিক আদালতে এটি প্রমাণিত হলো যে, বিস্ফোরণের জন্য নাইকো সরাসরি দায়ী ছিল।
এর ফলে নাইকোর বাংলাদেশে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আইনি ভিত্তি আরও মজবুত হলো।
৪. পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, সরকার এখনই চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে না।
পূর্ণাঙ্গ রায় বিশ্লেষণ: আইনজীবীদের মাধ্যমে পুরো রায় পাওয়ার পর এর বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে।
আপিলের সম্ভাবনা: ক্ষতিপূরণ বাড়ানোর জন্য কোনো আইনি সুযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
নতুন খনন: আইনি জটিলতা কাটলে ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে নতুন করে কূপ খননের কাজ শুরু করবে পেট্রোবাংলা।
সারকথা: ১২ হাজার কোটি টাকার দাবির বিপরীতে মাত্র ৫১২ কোটি টাকার রায় বাংলাদেশের জন্য কিছুটা হতাশাজনক হলেও, বহুজাতিক কোম্পানির দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।