আজ বুধবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান সূচকে (AQI) ২৭৪ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা ও কায়রো। ২৭৪ মানকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হলেও ঢাকার চারটি সুনির্দিষ্ট এলাকায় এই মান ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা দূষণের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে বিবেচিত।
১. বায়ুদূষণে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান
বিশ্বের দূষিত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে উপরের দিকে থাকে।
বৈশ্বিক ঝুঁকি: ‘আইকিউএয়ার’ (IQAir) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে শীর্ষ ৫টি দেশের একটি।
মৃত্যুর হার: স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার-এর তথ্যমতে, বায়ুদূষণজনিত মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকেও বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
২. বায়ুদূষণের ক্ষতিকর দিক (স্বাস্থ্যঝুঁকি)
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান দূষণ পরিস্থিতি ‘অসহনীয়’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে নগরবাসী নিম্নলিখিত দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী সমস্যায় ভুগছেন:
শ্বাসযন্ত্রের রোগ: হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস এবং ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD)।
হৃদরোগ ও স্ট্রোক: ক্ষুদ্র ধূলিকণা (PM2.5) রক্তে মিশে গিয়ে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
শিশুদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত: দূষিত বায়ুর কারণে শিশুদের ফুসফুসের পূর্ণ বিকাশ ঘটে না এবং তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
মানসিক স্বাস্থ্য: সাম্প্রতিক গবেষণায় বায়ুদূষণের সাথে বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
৩. বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর প্রতিকার
সরকারের ‘গৎবাঁধা’ পদক্ষেপের বাইরে বিশেষজ্ঞদের মতে নিচের উদ্যোগগুলো জরুরি:
নির্মাণকাজে কঠোরতা: শহরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও ব্যক্তিগত নির্মাণকাজগুলো ঢেকে করা এবং নিয়মিত পানি ছিটানো নিশ্চিত করা।
অবৈধ ইটভাটা বন্ধ: ঢাকার আশেপাশে থাকা কয়েক হাজার অবৈধ ইটভাটা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
ফিটনেসবিহীন যানবাহন: কালো ধোঁয়া ছাড়া পুরাতন বাস ও ট্রাক চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
বনায়ন ও জলাধার রক্ষা: নগরের ভেতরে গাছ লাগানো এবং জলাশয় রক্ষা করা যাতে ধূলিকণা প্রাকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।
শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ: কলকারখানার ধোঁয়া পরিশোধনে আধুনিক ফিল্টার বা ইটিপি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।
বিশেষজ্ঞ মন্তব্য:
পরিবেশবিদদের মতে, প্রতিবছর শীত মৌসুমে বায়ুদূষণ বাড়লেও সরকারি পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদী কোনো পরিকল্পনা দৃশ্যমান নয়। শুধু লোকদেখানো ছিটেফোঁটা পানি ছিটানো এই বিশাল সংকট সমাধানে যথেষ্ট নয়। কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছাই পারে ঢাকাকে এই ‘গ্যাস চেম্বার’ থেকে রক্ষা করতে।