

ডেস্ক রিপোর্ট :
সরকার ঢাকার বেইলি রোড ও মিন্টো রোডে মন্ত্রীদের জন্য নতুন তিনটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। ৭৮৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সাংবিধানিক পদের ব্যক্তিদের জন্য আধুনিক ও বিশাল আয়তনের ফ্ল্যাট নিশ্চিত করা।
বর্তমানে মন্ত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে:
সংবাদটিতে এই বিশাল ব্যয়ের প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের উদ্বেগ উঠে এসেছে:
|
বিষয় |
তুলনা ও মন্তব্য |
|---|---|
|
আয়তনের বৈষম্য |
একজন সাধারণ কর্মচারীর বাসার (৬৫০ বর্গফুট) তুলনায় মন্ত্রীদের এই ফ্ল্যাটগুলো প্রায় ১৪ গুণ বড়। |
|
অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট |
অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, রাজস্ব ঘাটতির এই সময়ে এমন ব্যয়বহুল প্রকল্প সরকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। |
|
নৈতিকতা |
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিকের মতে, যেখানে ৪ কোটি মানুষ দরিদ্র, সেখানে মন্ত্রীদের জন্য এমন রাজকীয় ফ্ল্যাট ‘বেমানান’। |
|
স্বার্থের সংঘাত |
অভিযোগ রয়েছে যে, মন্ত্রীরা নতুন ভবনে গেলে বর্তমান বড় ফ্ল্যাটগুলোতে আমলারা থাকতে পারবেন, তাই আমলারাই এই প্রকল্পে বেশি আগ্রহী। |
বর্তমানে অনেক সাংবিধানিক পদের ব্যক্তি (যেমন বিচার বিভাগ বা অন্যান্য সংস্থা) মন্ত্রিপাড়ায় থাকছেন। আইনজ্ঞদের মতে, নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে বিচার বিভাগ বা সাংবিধানিক পদের ব্যক্তিদের একত্রে থাকা উচিত নয়, কারণ এতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা বা প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
উপসংহার:
প্রকল্পটি এমন এক সময়ে নেওয়া হচ্ছে যখন দেশে অর্থনৈতিক কৃচ্ছ্রসাধনের কথা বলা হচ্ছে। একদিকে আবাসন সংকট নেই বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিটি ভবনে সুইমিংপুলসহ বিশাল আয়তনের ফ্ল্যাট নির্মাণ বিলাসিতা ও বৈষম্যের এক বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।