

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ
সংগঠনের আদর্শ ও নীতি বজায় রাখতে সরকারি কমিটির সদস্যপদ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মো. ওবায়দুল হক মিলন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘কাবিটা’ (কাজের বিনিময়ে টাকা) নীতিমালা অনুযায়ী গঠিত জেলা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছেন।
আবেদনে ওবায়দুল হক মিলন জানান, হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নিজস্ব গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো সংগঠক সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন বা মনিটরিং কমিটির সদস্য হতে পারেন না। নীতিগত এই বাধার পরেও তাকে জেলা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা তিনি ‘অনাকাঙ্খিত’ বলে উল্লেখ করেন।
ওবায়দুল হক মিলন কেবল আবেদন করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি জানান: নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। মৌখিকভাবে নিজের এই অপারগতার কথা জানানোর পরও তালিকায় নাম বহাল থাকায় তিনি লিখিতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।বিষয়টি অবহিত করতে তিনি জেলা প্রশাসক ছাড়াও পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বিভিন্ন উপজেলার (শান্তিগঞ্জ, জগন্নাথপুর, ছাতক ও দোয়ারাবাজার) নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুলিপি পাঠিয়েছেন।
হাওর রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি মনে করেন, সরকারি প্রকল্পের তদারকি কমিটিতে থাকলে সংগঠনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তাই সংগঠনের আদর্শিক জায়গা থেকে তিনি এই সরকারি দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তকে সাধুুবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই প্রসংশা করছেন।