

ডেস্ক রিপোর্ট :পদ্মা সেতু বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় কেবল পরিবর্তনই আনেনি, বরং আয়ের দিক থেকেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। নির্মাণের ৪৩ মাস পার হতে না হতেই এই সেতু থেকে টোল আদায়ের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পর থেকে ২০ জানুয়ারি ২০২৬ (মঙ্গলবার) পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:
পদ্মা সেতুর মাওয়া ও জাজিরা—উভয় প্রান্তেই ইলেকট্রনিক টোল আদায় (ETC) ব্যবস্থা সচল রয়েছে।
পদ্মা সেতু বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত একটি প্রকল্প। এর অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিম্নরূপ:
নির্মাণ ব্যয়: প্রকল্পটিতে মোট ব্যয় হয়েছে ৩০,৭৭০ কোটি টাকা।
ঋণের শর্ত: সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নেওয়া এই ঋণ ৩৫ বছরে ১ শতাংশ সুদে পরিশোধ করতে হবে।
কিস্তি: মোট ১৪০টি কিস্তিতে (প্রতি তিন মাস অন্তর) ঋণের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
খরচ বণ্টন: টোল থেকে প্রাপ্ত আয়ের ১৫ শতাংশ ভ্যাট হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা হয়। এছাড়া সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ এবং টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের (কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে) পরিচালনা ব্যয় মেটানোর পর অবশিষ্ট টাকা দিয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হয়।
দীর্ঘতম এই সেতুটি দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষের যাতায়াতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। সেতু কর্তৃপক্ষের মতে:
সময় সাশ্রয়: রাজধানী ঢাকার সাথে যাতায়াতের সময় নাটকীয়ভাবে কমেছে।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি: কৃষি, মৎস্য ও শিল্পজাত পণ্য দ্রুত পরিবহনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
কর্মসংস্থান: এই অঞ্চলের শিল্পায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এই মাইলফলক অর্জন উপলক্ষে সেতু কর্তৃপক্ষ যানবাহনের মালিক, চালক, শ্রমিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।