আয়কর আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে কর কর্মকর্তারা নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে সক্ষম:
পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন: কর কর্মকর্তারা চাইলে আপনার বাসাবাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির লাইন কেটে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
জরিমানা আরোপ: রিটার্ন না দিলে সর্বশেষ নিরূপিত করের ১০% জরিমানা করা হবে (যা সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকা)। এরপরও দেরি করলে প্রতিদিনের জন্য আরও ৫০ টাকা করে জরিমানা যোগ হবে।
অতিরিক্ত কর (পেনাল্টি): নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন দিলে প্রতি মাসের জন্য বিলম্বিত করের ওপর ২% হারে অতিরিক্ত কর গুনতে হবে।
কর অব্যাহতির সুবিধা হারানো: বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত বা কর অবকাশের মতো সুবিধাগুলো আপনি আর পাবেন না, ফলে আপনার করের পরিমাণ বেড়ে যাবে।
বেতন-ভাতা জটিলতা: সরকারি বা বেসরকারি চাকুরেদের ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা না দিলে বেতন-ভাতা উত্তোলনে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
📋 কাদের জন্য রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক?
মূলত দুই ধরনের ব্যক্তিদের জন্য রিটার্ন জমা দেওয়া আবশ্যক:
আয়ের ভিত্তিতে: যাদের বার্ষিক করযোগ্য আয় ৩.৫ লাখ টাকার বেশি।
সেবার ভিত্তিতে: ৩৯ ধরনের সরকারি-বেসরকারি সেবা (যেমন: ক্রেডিট কার্ড, ট্রেড লাইসেন্স, গাড়ি কেনা ইত্যাদি) গ্রহণের জন্য রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক।
💻 কোথায় এবং কীভাবে জমা দেবেন?
এ বছর থেকে রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি আধুনিক ও প্রযুক্তিগত করা হয়েছে:
অনলাইন পোর্টাল: আপনাকে www.etaxnbr.gov.bd এই ঠিকানায় গিয়ে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে হবে।
সময়সীমা: সাধারণত ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় থাকে। তবে বিশেষ বিবেচনায় এ বছর সময় বাড়িয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে।
ব্যতিক্রম: বিশেষ ৫টি শ্রেণির করদাতা ছাড়া সবার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক।
সতর্কতা: শেষ মুহূর্তের ভিড় এবং আইনি জটিলতা এড়াতে দ্রুত আপনার আয়কর রিটার্ন জমা দিন এবং নাগরিক হিসেবে আপনার পরিষেবাগুলো সুরক্ষিত রাখুন।