

ডেস্ক রিপোর্ট :
ইরানের চলমান অস্থিরতার মাঝে সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার পরিবারের ২০ জন সদস্যসহ রাশিয়ায় আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করলে এবং নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ন্ত্রণ হারালে তিনি মস্কোতে পাড়ি জমাতে পারেন।
এই গুঞ্জনকে ‘পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা’ আখ্যা দিয়ে দিল্লির ইরানি দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়। ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের চরম উত্তেজনার সময়েও খামেনি তেহরান ছাড়েননি।
ভিত্তিহীন দাবি: বিদেশে সম্পদ রাখা বা পলায়নের প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: দূতাবাস মনে করে, ইরানবিরোধী রাষ্ট্রগুলো জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে এই মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির সাথে আলাপকালে সাধারণ ইরানি নাগরিকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। তাদের মতে:
অর্থনৈতিক সংকট: মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।রাজনৈতিক অবস্থান: অনেক নাগরিক জানিয়েছেন, তারা অর্থনৈতিক সংস্কার চাইলেও খামেনির পতন চান না। তাদের দাবি, রাজতন্ত্রের সমর্থক (সাবেক শাহ রেজা পাহলভির অনুসারী) এবং বিদেশি মদতপুষ্ট কিছু গোষ্ঠী এই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।
সংক্ষেপে: ইরানের ৩১টি প্রদেশেই বর্তমানে অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। সরকার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেলেও, সর্বোচ্চ নেতার পলায়নের খবরটি ইরান সরকার পুরোপুরি অস্বীকার করেছে এবং একে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ হিসেবে দেখছে।