

ডেস্ক রিপোর্ট :
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মোছাব্বির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে ডিবি পুলিশ। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা হয়েছিল সাড়ে চার মাস আগে, যার নেপথ্যে রয়েছেন বিদেশে অবস্থানরত এক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’। কারওয়ান বাজারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথ পরিষ্কার করতেই মোছাব্বিরকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক আঁকা হয়।
গত শনিবার ঢাকা, গাজীপুর ও কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এই কিলিং মিশনের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। তারা হলেন:
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া এক শীর্ষ সন্ত্রাসী বিদেশ থেকে এই হত্যার নির্দেশ দেন। পুরো অপারেশনের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৫ লাখ টাকা। চুক্তিতে বলা হয়েছিল:
গত বুধবার রাতে পশ্চিম তেজতুরী বাজারে মোছাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে জিন্নাত ও পলাতক শুটার আবদুর রহিম। এর আগেও একবার হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় এবার পরিকল্পনা বদলে পেশাদার খুনি নিয়োগ দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পর খুনিরা মহাখালীর একটি মাঠে অস্ত্র জমা দিয়ে উত্তরার একটি হোটেলে গিয়ে মাদক সেবন করে রাত কাটায়। পরবর্তীতে আত্মগোপনের জন্য বিল্লাল নতুন তিনটি মোবাইল ফোন কেনেন এবং সাটুরিয়া পালিয়ে যান।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এটি মূলত ব্যবসাকেন্দ্রিক এবং এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের ফল। তিনি বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেছি। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো উদ্ধারে অভিযান এখনো চলছে।”
নিহত মোছাব্বির ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় জেল খাটার পর ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর তিনি পুনরায় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলেন। আর সেই সক্রিয়তাই কি তার প্রাণ কেড়ে নিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।