এনসিপি এবং জামায়াতের মধ্যে নির্বাচনী আসন ভাগাভাগি নিয়ে নিবিড় আলোচনা চলছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদেরের দাবি অনুযায়ী:
চাহিদা: এনসিপি অন্তত ৫০টি আসন দাবি করেছে।
সম্ভাব্য রফা: আলোচনা শেষে ৩০টি আসনে সমঝোতা হতে পারে।
শর্ত: সমঝোতা হলে বাকি ২৭০টি আসনে এনসিপি কোনো প্রার্থী দিতে পারবে না।
ঘোষণা: সবকিছু ঠিক থাকলে আজ (শুক্রবার) এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
২. এনসিপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পদত্যাগ
জামায়াতের সাথে এই সম্ভাব্য জোট নিয়ে এনসিপির ভেতরেই তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায়:
দলের যুগ্ম সদস্যসচিব এবং চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হক পদত্যাগ করেছেন। তিনি মূলত জামায়াত-বিরোধ অংশ হিসেবে পরিচিত।
দলের একটি অংশ মনে করছে, নির্বাচনে জয়লাভ করতে হলে বিএনপি বা জামায়াতের সাথে সমঝোতা ছাড়া উপায় নেই।
৩. বিএনপির সাথে সম্পর্কের টানাপড়েন
এনসিপি শুরুতে বিএনপির সাথে সমঝোতার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি। তবে দলটির শীর্ষ নেতারা এখনো হাল ছাড়েননি:
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর তাঁর সাথে পুনরায় আলোচনার আশা রাখছে এনসিপি।
তারা তারেক রহমানের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী, যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
৪. ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটে’ ফাটল
গত ৭ ডিসেম্বর এনসিপি, এবি পার্টি এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠন করেছিল। লক্ষ্য ছিল বিএনপি-জামায়াতের বাইরে একটি ‘তৃতীয় শক্তি’ হওয়া। কিন্তু এনসিপি ও এবি পার্টির বর্তমান কর্মকাণ্ডে এই জোটে ফাটল ধরেছে:
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের ক্ষোভ: দলটির নেতা দিদার ভুঁইয়া জানিয়েছেন, বিএনপি-জামায়াতের সাথে আলোচনা করে জোটের মূল আদর্শ লঙ্ঘন করা হয়েছে। এর ফলে জোটটি এখন ভেঙে যাওয়ার মুখে।