

স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃষকদের বোরো ফসলের একমাত্র আবাদ ভুমি খরচার হাওর। যেখানে বোরো ফসলের চাষাবাদ করেন দুই উপজেলার কৃষক। কিন্তু, হাওরে জলমহাল ইজারাপ্রথা চালু হওয়ার পর থেকেই হাওরের কৃষকরা পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যার ফলে শত শত একর ফসলি জমি একদিকে পলি পড়ে ভরাট হচ্ছে। অন্যদিকে পানির অভাবে চাষযোগ্য জমি চাষাবাদ করতে পারছেন না কৃষকরা। অনাবাদি হয়ে পড়ছে ঐসব জমি। জমি চাষ করতে না পাড়ায় হাওরপাড়ের কৃষকদের উৎকন্ঠা বেড়েই চলছে। এরই প্রতিবাদে
সুনামগঞ্জে খরচার হাওরের সীমানা নির্ধারণ এবং কৃষকদের ওপর ইজারাদার কর্তৃক দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার খরচার হাওরের পাড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে গৌরারং ইউনিয়নের কয়েক শতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে সাবেক ইউপি সদস্য আলী আহমদ’র সভাপতিত্বে এবং ইয়াহিয়া হাসানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় শালিসী ব্যক্তিত্ব আব্দুল হেকিম, মঈনুল হক, জাহাঙ্গীর আলম, নুরুল আমিন, জাহিদ হোসেন, আবুল কাশেমসহ আরও অনেকে। বক্তারা বলেন, গৌরারং ইউনিয়নের খরচার হাওরে প্রায় ৭০০ একর জমি পানির অভাবে অনাবাদি হয়ে পড়ে আছে। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কৃষকেরা সেখানে কৃষিকাজ করতে পারছেন না। খাসিয়াখারা খাল থেকে বাঁধ দিয়ে পানি উত্তোলনের উদ্যোগ নিলে খরচার হাওরের ইজারাদার কৃষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করছেন। বক্তারা অবিলম্বে এসব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং কৃষকদের জন্য পানি সেচের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অন্যথায় বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি থেকেই যাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বক্তারা আরো বলেন-এই মৌসুমে আমরা গৌরারং ইউনিয়নের ৮টি গ্রামের কৃষকরা হাওরে চাষাবাদের জন্য পানি আটকে রাখলেও জলমহালের ইজারাদার তাদের ইচ্ছামতো পানি ছেড়ে দেন। যার ফলে কৃষকরা পানির অভাবে তাদের ৭০০ একর জমি চাষ করতে পারছেন না। প্রতিবাদ করতে গেলে ইজারাদার কৃষকদের উপর মামলা দিচ্ছেন। কৃষকরা বলেছেন আমরা আমাদের সীমানায় আছি কিন্তু, ইজারাদার জোর করে দখলদার হতে চায়।
#