
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মালিক ও কয়ছরকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যুক্তরাজ্য শাখা কমিটি বিলুপ্ত করে আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ এবং সদস্য সচিব খসরুজ্জামান খসরু। প্রায় পাঁচ বছর পর কমিটি পুনর্গঠন করা হলো। ঘোষিত কমিটি শিগগিরই পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে বলে জানানো হয়।
জানা গেছে, যুক্তরাজ্য বিএনপি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এম এ মলিক বাংলাদেশে তার নিজ এলাকা সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। কয়ছর এম আহমদ পেয়েছেন সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে।
এম এম মালিকের আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ কাইয়ুম। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এম এ মালিক দেশে ও বিদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ পরিচিত। দীর্ঘ ১৯ বছর পর গত বছর ১৩ অক্টোবর দেশে ফিরেন। ফিরেই তিনি নিয়মিত সভা-সমাবেশে অংশ নেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের এনেও সমাবেশ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় এম এ মালিকের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ কম। এই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হচ্ছেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক সভাপতি লোকমান আহমদ। তিনি আওয়ামী লীগের জয়জয়কার সময়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
অপরদিকে, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে ছাত্রদলের সাবেক নেতা যুক্তরাজ্য বিএনপির সেক্রেটারী এম কয়ছর আহমদ অপেক্ষাকৃত জনপ্রিয়। তবে এই আসনে তাঁর বিপরীতে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি নাদীর আহমদ, ব্যরিস্টার আনোয়ার হোসেনসহ ডজনখানেক নেতা। সম্প্রতি আসনটিতে জমিয়তের রাজনীতি ছেড়ে তালহা আলম এবি পার্টিতে যোগ দেওয়ায় আরেক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে দুটো আসনে বিএনপি বিরোধী বলয়ে নানা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। ৮ দলীয় জোট হলে জামায়াত দুটো আসনেই প্রার্থিতা বদল করার তৎপরতায় রয়েছে।
ভোটের মাঠে এ রকম টালমাটাল অবস্থায় হঠাৎ মালিক-কয়ছরের লন্ডনযাত্রা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। লন্ডন পা দিয়েই পদহারা হওয়ার বিষয়টি তাদের নির্বাচনী এলাকায় নানা আলোচনা ছড়িয়েছে। বলা হচ্ছে, দলের শীর্ষ নেতাদের না জানিয়ে দুজন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সর্বশেষ সভায় সভাপতিত্ব ও পরিচালনা করতে মালিক ও কয়ছর লন্ডন যান ১৫ ডিসেম্বর। ওই দিনই অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে তাদের পদহারা বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে প্রকাশ হয়। এতে করে ভোটের মাঠে বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা আছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, রেড ক্রিসেন্ট সুনামগঞ্জ জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথপুরের বাসিন্দা অ্যাড. মল্লিক মঈনুদ্দিন সুহেল পি.পি. বললেন, কয়ছর আহমদ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, তিনি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনীত প্রার্থী। এই অবস্থায় যুক্তরাজ্য বিএনপিতে তার স্থলাভিষিক্ত অন্য কেউ হবার বিষয়টি দলের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। নির্বাচনী এলাকায় এই প্রক্রিয়াটি নেতিবাচক তো হবেই না, বরঞ্চ এটাকে ইতিবাচকভাবেই সকলে গ্রহণ করবেন।মালিক-কয়ছরের পদহারার বিষয়টি সাংগঠনিক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে জানিয়েছেন সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বুধবার সন্ধায় তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য বিএনপির নতৃন নেতৃত্ব বিষয়টি আমার জানামতে সাংগঠনিক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এরমধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নেই। বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক (মালিক-কয়ছর) যেহেতু বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী, সেহেতু তাদের বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি করা হয়েছে।’