যাদুকাটায় চলছে পাড় কাটার মহোৎসব
দুইজনকে দুই মাস করে সাজা
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী নদী যাদুকাটা।যাকে ঘিরে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা। প্রবাদ আছে যাদুকাটা খোলা থাকলেই শ্রমজীবি মানুষের কাছে ঈদের আনন্দ বয়ে যায়। আর বন্ধ থাকলে দুঃখের সীমা নাই। প্রাকৃতিক সম্পদ আর বৈচিত্রময় সৌন্দর্যের যাদুকাটাতে প্রতি বছর হয়ে থাকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পনাতীর্থের গঙ্গাস্নান। যাদুকাটা দুইপাড়েই রয়েছে আদিত্য বাড়ি ও মন্দির। অপরদিকে যাদুকাটার পাড়েই অবস্থিত লাউড়েরগড় শাহ আরেফিনের মাজার শরীফ। অথচ আজ অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। লুটেরা বালুখেকোদের কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে নদীর দুইপাড়ের গ্রাম ও পরিবেশ। মাহারাম যাদুকাটা-১ ও ২ এর সীমানা নির্ধারণ করে দিলেও মানা হচ্ছে না সরকারি নির্দেশনা। ড্রেজার নামের দানব আর সেভমেশিনে ক্ষতবিক্ষত যাদুকাটার বুক। বালু লুটেরাদের তান্ডবলীলায় হুমকিরমুখে পড়েছে মানিগাঁওয়ের এশিয়ার বৃহৎ জয়নাল আবেদীনের শিমুলবাগান। এমন হরিলুট এর আগে কেউ দেখেনি। প্রশাসনের চিহ্নিত করা সীমানা বাহিরে সৃষ্টি করা হয়েছে আরেক সীমানা। যেই সীমানায় রয়েছে নদীর দক্ষিণ পাড়ের লাউড়েরগড়, জামালেরচর, বিন্নাকুলি,মুদেরগাঁও। এমনকি হুমকির মধ্যে পড়েছে যাদুকাটা নদীর উপর নির্মিত সেতু। পশ্চিমপাড়ে মানিগাঁও,ঘাগটিয়া অন্যতম। পাড়কাটা নিয়ে একাধিক মিডিয়ায় লাইভ ও সংবাদ প্রচারের পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রশাসন স্পীট এর মাধ্যমে অভিযান শুরু করে। এতে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী যায়যায়দিনকে জানান, ইজারাদার চেষ্টা করছেন যাতে শ্রমিকরা বালু উত্তোলনে পাড়ে না যায়। উপজেলা প্রশাসনের দুইজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট অভিযান পরিচালনা করে দুইজনকে আটক করে তাদের প্রত্যেককে দুই মাস করে বিনাশ্রম সাজা প্রদান করেন ভাম্যমান আদালত।
ইজারাদার নাসির মিয়ার সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য দেওয়া যায়নি।
ছবি সংগৃহীত