দিরাই প্রতিনিধি | ৮ মে, ২০২৬
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দীর্ঘ চার মাস পুলিশি হেফাজতে থাকা ১ হাজার ৫২০ লিটার দেশি মদ ৫ লাখ টাকার বন্ডে লাইসেন্সধারীর জিম্মায় হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় মদের গুণগত মান ও সুরা শক্তি (অ্যালকোহল ঘনত্ব) নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। রাসায়নিক পরীক্ষা ছাড়া এই মদ বুঝে নিতে চাইছেন না সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সধারী।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৩১শে ডিসেম্বর দিরাই পৌরসভার হারানপুর এলাকার লাইসেন্সধারী নিরঞ্জন সাহার দোকান থেকে ১৫২০ লিটার দেশি মদ জব্দ করেছিল পুলিশ। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৫ই মে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম জব্দকৃত মদ শর্তসাপেক্ষে মালিকের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন। আদেশে নমুনা হিসেবে কিছু মদ রেখে বাকি অংশ ৫ লাখ টাকার জিম্মানামা সাপেক্ষে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে হস্তান্তরের জন্য দিরাই থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের আদেশের পর মদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লাইসেন্সধারী নিরঞ্জন সাহা। তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে এক আবেদনে জানান:
"দীর্ঘ ৪ মাস খোলা জায়গায় রোদ-বৃষ্টিতে পড়ে থাকায় মদের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এই অবস্থায় নষ্ট মদ পারমিটধারীদের কাছে বিক্রি করলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি হতে পারে। তাই হস্তান্তরের আগে ল্যাব টেস্ট (পরীক্ষা) করা জরুরি।"
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন:
"আমরা আদালতের আদেশের কপি হাতে পেয়েছি। আদালত যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, সে অনুযায়ী জব্দকৃত আলামত হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। পুলিশ সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।"
সুনামগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. আবদুর রহমান সজীব বলেন:
"লাইসেন্সধারীর লিখিত আবেদন আমরা পেয়েছি। মদের বর্তমান গুণগত মান ও অ্যালকোহলের ঘনত্ব নিশ্চিত করতে রাসায়নিক পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ল্যাবে নমুনা পাঠিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।"
এখন দেখার বিষয়, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের আগে জনস্বাস্থ্য ও লাইসেন্সধারীর যৌক্তিক আবেদন বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।