
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
সুনামগঞ্জের দিগন্তজোড়া হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় নির্মিত বাঁধে ভয়াবহ দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার কৃষক। রোববার সকালে 'হাওর বাঁচাও আন্দোলন'-এর ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে কৃষকদের ক্ষোভ আর স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে সুনামগঞ্জ জেলা শহর।
সকাল সাড়ে ১১টায় শহরের প্রাণকেন্দ্র ট্রাফিক পয়েন্টে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা হাজারো কৃষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সমবেত হন। সমাবেশে বক্তারা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যোগসাজশের মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাটের তীব্র অভিযোগ তোলেন।
সমাবেশে কৃষকরা বাঁধ নির্মাণ প্রক্রিয়ার বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অনিয়ম তুলে ধরেন:
"আমরা আর কতকাল দুর্নীতির বলি হবো? আমাদের পাহারাদাররাই এখন ভক্ষক হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
— চিত্তরঞ্জন তালুকদার, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি, হাওর বাঁচাও আন্দোলন।
বিক্ষোভ শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। তাদের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো:
|
ক্রমিক |
দাবিসমূহ |
|---|---|
|
১ |
দুর্নীতির সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ। |
|
২ |
'কাবিটা' (কাজের বিনিময়ে টাকা) নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা। |
|
৩ |
রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে প্রকৃত কৃষকদের দিয়ে পিআইসি (PIC) গঠন। |
|
৪ |
বাঁধ নির্মাণে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু। |
|
৫ |
অকাল বন্যায় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অবিলম্বে 'ফসল বীমা' কার্যকর করা। |
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "বাঁধের কাজে দুর্নীতি মানেই কৃষকের পেটে লাথি মারা। তদন্ত ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।"
সমাবেশে জেলা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুল, কুদরত পাশা ও আবু সাঈদসহ তৃণমূলের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা একবাক্যে জানান, হাওরের ফসল কেবল কৃষকের সম্পদ নয়, এটি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার অংশ। তাই এই সম্পদ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে।
সুনামগঞ্জের এই গণবিক্ষোভ প্রমাণ করে যে, ফসল রক্ষায় কৃষকরা এখন সচেতন এবং নিজেদের অধিকার আদায়ে তারা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।