প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ১০:০৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ১৪, ২০২৬, ৪:১৭ পি.এম
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী হামলা
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী হামলায় ব্যাপক ক 
নিও.ডেস্ক :
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী হামলা।
- ক্ষয়ক্ষতি: খার্গ দ্বীপের প্রায় প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
- তেল অবকাঠামো: গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপের তেল অবকাঠামো এখনো অক্ষত রাখা হয়েছে। তবে ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, ইরান যদি জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তবে তিনি তেল স্থাপনায় হামলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন।
- ট্রাম্পের বার্তা: ইরানকে "অবশিষ্ট যা আছে তা বাঁচাতে" অবিলম্বে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ইসরায়েলের অবস্থান: 'নির্ণায়ক পর্যায়'
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই হামলাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ইরান বিরোধী সংগ্রাম এখন চূড়ান্ত বা 'নির্ণায়ক পর্যায়ে' পৌঁছেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ নেতৃত্বে এই অভিযান প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন।
৩. হরমুজ প্রণালি ও বিশ্ববাণিজ্য রক্ষা:
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু বড় পদক্ষেপের কথা ভাবছে:
- বীমা ও নিরাপত্তা: নিরাপদ নৌ-চলাচলের জন্য ২০ বিলিয়ন ডলারের বিমা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
- সেনা মোতায়েন: জাপান থেকে ২,৫০০ মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে, যারা দুই সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছাবে।
- নৌবাহিনীর ভূমিকা: বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে মার্কিন নৌবাহিনীকে।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি: সংযুক্ত আরব আমিরাত ঝুঁকিতে
মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য এখন আর শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারকারী দেশগুলোও:
-
- সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্যবস্তু: ইরান পরিষ্কার জানিয়েছে, আমিরাতে থাকা মার্কিন আস্তানা, বন্দর এবং সামরিক এলাকাগুলো এখন থেকে তাদের 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু'।
- নাগরিকদের প্রতি সতর্কতা: আইআরজিসি আমিরাতের নাগরিকদের মার্কিন ঘাঁটি বা সামরিক এলাকার কাছ থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেছে, যা সম্ভাব্য বড় ধরনের পাল্টা হামলার ইঙ্গিত দেয়।
সারসংক্ষেপ: একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ইরান আঞ্চলিক মিত্রদের (যেমন আমিরাত) ওপর পাল্টা হামলার হুমকি দিয়ে যুদ্ধের পরিধি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। পুরো পরিস্থিতি এখন হরমুজ প্রণালি এবং জ্বালানি বাজারের নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত