
নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ সুনামগঞ্জের লাখ লাখ কৃষকের স্বপ্নের বোরো ফসল রক্ষায় নির্মিত বাঁধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ধীরগতির প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে 'হাওর বাঁচাও আন্দোলন'। মঙ্গলবার সকালে জেলা শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ না হলে এবং দুর্নীতি বন্ধ না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রতিটি উপজেলায় মামলা দায়ের করা হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত বছর বাঁধের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৩০ কোটি টাকা, যা এবার বাড়িয়ে ১৪৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। অথচ গত বছর বড় কোনো বন্যা না হওয়ায় অধিকাংশ বাঁধই অক্ষত ছিল। সরেজমিনে পরিদর্শন না করেই মনগড়া ও অপরিকল্পিতভাবে অনেক জায়গায় দ্বিগুণ-তিনগুণ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বক্তাদের উল্লেখযোগ্য কিছু অভিযোগ:
"সরকার অকৃপণভাবে ১৪৫ কোটি টাকা দিলেও দায়িত্বশীলদের অবহেলা ও খামখেয়ালিতে হাওরপাড়ের কৃষক আজ চরম উৎকণ্ঠায়।" — নেতৃবৃন্দ, হাওর বাঁচাও আন্দোলন।
জেলা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুলের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত গুপ্তের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অসংখ্য নেতাকর্মী বক্তব্য রাখেন। এতে বিজন সেন রায়, সুখেন্দু সেন, চিত্তরঞ্জন তালুকদারসহ বিভিন্ন উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ একাত্মতা প্রকাশ করেন। তারা অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে এই বরাদ্দের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
অনিয়ম ও ধীরগতির অভিযোগ অস্বীকার করে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, অনেক দূর থেকে মাটি আনতে হচ্ছে বলে এবার ব্যয় ও বরাদ্দ বেড়েছে। এছাড়া ভ্যাট বৃদ্ধির বিষয়টিকেও তিনি বাড়তি বরাদ্দের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে তারা বদ্ধপরিকর।
দৃষ্টিভঙ্গি: আন্দোলনকারীদের দাবি এবং সরকারি দপ্তরের তথ্যের মধ্যে বিস্তর ফারাক কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘনিয়ে এলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র কী দাঁড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।