
ডেস্ক রিপোর্ট :
নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে উত্থাপিত 'ঐক্য সরকার' গঠনের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে তিনি জানিয়েছেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষায় শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা জরুরি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) গুলশানে নিজ কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান তাঁর অনড় অবস্থানের কথা জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন:
"আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিয়ে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দলে থাকবে কে?"
তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন যে, নির্বাচনে তাঁর দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী। একইসাথে তিনি আশা প্রকাশ করেন, জামায়াতে ইসলামী যদি বিরোধী দলে বসে, তবে তারা যেন একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে।
দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন বেশ ফুরফুরে মেজাজে। এবারের নির্বাচনে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে কিছু মূল তথ্য:
এক সময়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পথ এখন আলাদা। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তারা জোটবদ্ধভাবে দেশ চালালেও ২০২৬-এর নির্বাচনে তারা একে অপরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে লড়ছে।
জামায়াত নেতারা দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে সকল দলের সমন্বয়ে একটি 'জাতীয় ঐক্য সরকার' গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করলেও বিএনপি চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যে তা আপাতত নাকচ হয়ে গেল।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। বর্তমানে দেশ একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে রয়েছে।