
তাহিরপুর প্রতিনিধি | ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬
সুনামগঞ্জের প্রাকৃতিক বিস্ময় ও বিশ্ব ঐতিহ্য টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে পর্যটক এবং স্থানীয়দের সচেতন করতে এক বিশেষ প্রচারপত্র বিলি কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার দিনভর হাওরের বিভিন্ন পয়েন্টে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন 'টাঙ্গুয়ার হাওর উন্নয়ন ফোরাম'।
"হাওর বাঁচলে বাঁচবো আমরা"—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে পর্যটক, হাউসবোট মালিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করাই ছিল এই আয়োজনের মুল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
সংগঠনের পক্ষে দিনভর প্রচারপত্র বিলি করেন:
পরিবেশ দূষণ রোধে প্রচারপত্রের মাধ্যমে আগত পর্যটকদের প্রতি বিশেষ কিছু অনুরোধ জানানো হয়েছে:প্লাস্টিক বর্জ্য বর্জন: হাওরের পানিতে বা স্থলে কোনো প্রকার প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা যাবে না।
শব্দ দূষণ রোধ: উচ্চ শব্দে সাউন্ডবক্স বা মাইক বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
পাখি সংরক্ষণ: পরিযায়ী বা অতিথি পাখি শিকার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
গাছ রক্ষা: হাওরের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ হিজল ও করচ গাছ নিধন বন্ধ করতে হবে।
পরিবেশবান্ধব পর্যটন: হাউসবোট পরিচালনায় পরিবেশগত নিয়মাবলী মেনে চলা।
পটভূমি: ১৯৯৯ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরকে 'প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' এবং ২০০০ সালে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ 'রামসার সাইট' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।টাঙ্গুয়ার হাওরে রয়েছে ১৪০-২০০ প্রজাতির মাছ ও ২০০ প্রজাতির পাখি। শীতকালে পরিযায়ী পাখি সহ প্রায় ২৫০ প্রজাতির পাখির বিচরণ ঘটে এই টাঙ্গুয়ায়। কিন্তু পাখি শিকারি ও চোরা জালুয়াদের কারণে অনেক প্রজাতির মাছ ও পাখি আজ বিলুপ্ত প্রায়। এর অনন্য জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখা এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য: টাঙ্গুয়ার হাওরের মতো সংবেদনশীল ইকো-সিস্টেম রক্ষায় সরকারি নজরদারির পাশাপাশি এমন সামাজিক উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। প্লাস্টিক মুক্ত হাওর গড়াই হোক আমাদের অঙ্গীকার।