প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৬, ৫:৪৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ২৫, ২০২৬, ৩:১৩ এ.এম
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ একনেক সভা: ২৬ প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ একনেক সভা: ২৬ প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট নিও:
আজ রবিবার (২৫ জানুয়ারি, ২০২৬) বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ১৯তম এবং সম্ভবত শেষ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সভায় মোট ২৬টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।
প্রকল্পের ধরন ও অর্থায়ন একনজরে
সভায় উপস্থাপিত প্রকল্পগুলোর বিন্যাস নিচে দেওয়া হলো:
- নতুন প্রকল্প: ১৩টি।
- সংশোধিত প্রকল্প: ৫টি।
- মেয়াদ বৃদ্ধি: ৫টি (অন্যান্য ৩টিসহ মোট ২৬টি প্রস্তাব)।
- অর্থায়ন: ১৩টি প্রকল্প সম্পূর্ণ সরকারি (জিওবি) অর্থায়নে, বাকিগুলো প্রকল্প ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তায় পরিচালিত হবে।
গুরুত্বপূর্ণ খাতের বিশেষ প্রকল্পসমূহ
১. পানি সম্পদ ও পরিবেশ (৬টি বড় প্রকল্প)
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের উদ্যোগে প্রায় ৩,৪৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি প্রকল্প উত্থাপন করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য নদীভাঙন রোধ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ: পদ্মা নদীর উভয় তীর সংরক্ষণ এবং মহানন্দা ড্রেজিং ও রাবার ড্যাম প্রকল্প।
- উত্তরাঞ্চল: পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের নদীসমূহের টেকসই ব্যবস্থাপনা।
- বরিশাল: তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন থেকে মেহেন্দিগঞ্জ রক্ষা প্রকল্প।
- শরীয়তপুর: জাজিরায় পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা (মাঝিরঘাট জিরো পয়েন্ট)।
২. পরিবহন ও অবকাঠামো
- খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি: আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ (ব্যয়: ১,০৫৬ কোটি টাকা)।
- চট্টগ্রাম: লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং শাহ আমানত বিমানবন্দরের রানওয়ে সংস্কারের মেয়াদ বৃদ্ধি।
- রেলপথ: দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনদুম ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি।
৩. অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রকল্প
- পরিবেশ: বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রজেক্ট (ব্যয়: ৯৪৮ কোটি টাকা)।
- প্রযুক্তি: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন।
- দক্ষতা উন্নয়ন: ৬৪ জেলায় যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্প।
- নিরাপত্তা: নৌ-পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের জন্য বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ।
কেন এই সভা গুরুত্বপূর্ণ?
এই সভাটি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে নেওয়া একটি বড় পদক্ষেপ। বিশেষ করে নদীভাঙন কবলিত এলাকা এবং পরিবেশ সুরক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর (যেমন: রূপপুর বা কক্সবাজার রেলপথ) সময় ও ব্যয় সমন্বয় করে সেগুলোকে গতিশীল রাখার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত