
ডেস্ক রিপোর্ট :
ইরান ইস্যুতে সুর নরম করার কয়েক দিনের মাথায় আবারও কঠোর অবস্থানের বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে একটি বিশালাকার নৌবহর বা ‘আর্মাডা’ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলন শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত সপ্তাহে ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি স্থগিত করার পর ট্রাম্পের কণ্ঠে কিছুটা নমনীয়তা দেখা গিয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতিতে কোনো ঢিল দেওয়া হয়নি। ট্রাম্প বলেন:
"আমাদের অনেকগুলো জাহাজ সেদিকে যাচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা ইরানের দিকে একটি বড় বাহিনী পাঠাচ্ছি। আমি চাই না কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটুক, তবে আমরা তাদের খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।"
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নৌবহরকে একটি ‘আর্মাডা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল যে, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-কে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সামরিক শক্তির মহড়া দিলেও ট্রাম্প একই সাথে কূটনীতির পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন:
এদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রথমবারের মতো সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ৩,১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা সরকারি তথ্যের চেয়ে বহুগুণ বেশি হতে পারে।
বিশ্লেষণ: ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী অবস্থান—একদিকে আলোচনার প্রস্তাব এবং অন্যদিকে বিশাল নৌবহর পাঠানো—ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।