
নিজস্ব প্রতিনিধি | ২২ জানুয়ারি, ২০২৬
সুনামগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলের কৃষকদের স্বপ্নের ফসল রক্ষায় 'কাবিটা' (কাজের বিনিময়ে টাকা) নীতিমালার আওতায় বাস্তবায়নাধীন ডুবন্ত বাঁধ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বাঁধের কাজের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং অনিয়ম রোধে গণমাধ্যমকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
বুধবার বিকাল ৪টায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলার ১২টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার চলমান বাঁধের কাজের বর্তমান অবস্থা ও অগ্রগতি তুলে ধরেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন:
বাঁধের কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। কোনো অপ্রয়োজনীয় বাঁধ দেওয়া হয়েছে কি না বা কাজের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সাংবাদিকদের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও উপাত্ত দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতার অনুরোধ জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব (উকিলপাড়া)-এর সভাপতিসহ প্রবীণ সাংবাদিকরা বাঁধের কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন:
কাজের স্তর বিন্যাস: বাঁধের কাজে কয়টি স্তর রয়েছে এবং মাটি ফেলার প্রক্রিয়া কী, তা সাংবাদিকদের স্পষ্টভাবে অবহিত করার দাবি জানানো হয়।
বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক: গত বছরের বাঁধগুলো তেমন ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া সত্ত্বেও ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন কাবিটা বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে চলমান আলোচনার বিষয়টি সভায় উঠে আসে।
পিআইসিদের সীমাবদ্ধতা: বরাদ্দের তুলনায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে (পিআইসি) কম টাকা দেওয়ার ফলে অনেক ক্ষেত্রে কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সাংবাদিকরা উল্লেখ করেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের কাবিটা নীতিমালার আওতায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বাঁধের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা এখন প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বাঁধের কাজের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পিআইসি গঠন থেকে শুরু করে অর্থ ছাড় পর্যন্ত কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন জেলার সচেতন মহল।
হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ শুধু একটি মাটির কাঠামো নয়, এটি সুনামগঞ্জের লাখো কৃষকের জীবন-জীবিকার রক্ষা কবচ। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ এবং সাংবাদিকদের তথ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে একটি টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত বাঁধ নির্মাণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।