প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১০:৫২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ২২, ২০২৬, ৯:২৫ এ.এম
সবার আগে বাংলাদেশ’: সিলেটে তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচার শুরু
'সবার আগে বাংলাদেশ': সিলেটে তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচার শুরু

সিলেটের পুণ্যভূমি থেকে নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্যে জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং বিগত সরকারের সমালোচনা প্রাধান্য পেয়েছে।
সিলেট ও সুনামগঞ্জের আয়োজনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সভাস্থলে নেতাকর্মীদের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে সিলেটের জনসভা প্রাঙ্গণ। উক্ত জনসভাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরণের উৎফুল্লতা লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় মানুষের ঢল নামে। এই জনসভা থেকেই আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে,তারেক রহমান কি ঘোষণা দিবেন, নির্বাচনী ইশতেহারের বাস্তবায়ন কতটুকু দুরদৃষ্ট হয় তাই নিয়েই কৌতুহলী ছিল তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
১. রাজনৈতিক অবস্থান ও সার্বভৌমত্ব
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন যে, বাংলাদেশের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ কোনো বিদেশি শক্তির হাতে থাকবে না। তিনি স্লোগান দেন:
"দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, অন্য কোনো দেশ নয়—সবার আগে বাংলাদেশ।"
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মানুষই সকল ক্ষমতার উৎস এবং বিএনপি জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২. ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আওয়ামী লীগের সমালোচনা:
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে পৃথিবী ও পরকালের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন করেন। জনতা 'আল্লাহ' উত্তর দিলে তিনি বলেন:
- নির্বাচনের আগে কোনো দল যখন এমন কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় যা কেবল স্রষ্টার হাতে, তা এক প্রকার 'শিরক' ও মানুষকে ঠকানোর শামিল।
- বিগত ১৫-১৬ বছরের নির্বাচনকে তিনি 'ব্যালট বক্স ছিনতাই', 'আমি-ডামি' এবং 'নিশিরাতের নির্বাচন' হিসেবে অভিহিত করেন।
৩. 'টেক ব্যাক বাংলাদেশ' ও স্বাবলম্বী হওয়ার ডাক:
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে 'টেক ব্যাক বাংলাদেশ' আন্দোলনের কথা পুনব্যক্ত করেন। তাঁর মতে:
- দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করার পর এখন মানুষের ভোটের অধিকার ও কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
- লক্ষ্য কেবল ক্ষমতায় যাওয়া নয়, বরং প্রতিটি মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা।
সমাবেশের বিশেষ দিকসমূহ:
- উপস্থিতি: সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
- আবেগঘন মুহূর্ত: গুম হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী-সহ নিখোঁজ ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা বসার স্থান রাখা হয়েছিল। বক্তব্যে তাঁদের ত্যাগের কথা বারবার উঠে আসে।
- তরুণদের সাথে মতবিনিময়: মূল জনসভার আগে তিনি স্থানীয় একটি হোটেলে শতাধিক তরুণ শিক্ষার্থীর সাথে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিনিময় করেন।
- পরবর্তী কর্মসূচি: সিলেট থেকে ঢাকা ফেরার পথে তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে আরও ছয়টি পথসভায় বক্তব্য দেবেন এবং প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত