আসন্ন ২০২৬ সালের গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে এক বিশেষ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে শহরের ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে আসন্ন গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ী হওয়া অপরিহার্য। "দেশের ক্ষমতার চাবি এখন জনগণের হাতে। অতীতে সরকারগুলো নিজেদের প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করেছে, কিন্তু গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ী হলে ভবিষ্যতে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের সরাসরি রায় বা গণভোট বাধ্যতামূলক হবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় সংসদে 'উচ্চকক্ষ' প্রতিষ্ঠিত হবে, যা ব্রিটেন বা আমেরিকার মতো উন্নত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আদলে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য আনবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ভোটারদের জন্য দুটি ভিন্ন ব্যালট পেপার থাকবে বলে সভায় জানানো হয়:
ধর্ম উপদেষ্টা উপস্থিত ইমাম ও আলেম সমাজকে জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।
ড. খালিদ হোসেন স্পষ্ট করে বলেন, কোনো শিক্ষক, ইমাম বা সরকারি কর্মকর্তা কোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারবেন না। যেকোনো অনিয়মে সরাসরি প্রশাসনকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন পিপিএম ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা।
সভায় উপস্থিত সুনামগঞ্জের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীগণ—দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উম্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে 'সুপার ক্যারাভান' নামক বিশেষ প্রচার যানের মাধ্যমে গণভোট বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভিডিও বার্তাও প্রচার করা হয়।#