সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির ডিগবাজি,ধানের শীষের কান্ডারী কামরুল

মোঃ বাবুল মিয়া, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) নির্বাচনী আসনটি সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।প্রায় পাঁচ লক্ষ ভোটারের গুরুত্বপূর্ণ এই আসনেরদিকেই থাকে জেলাবাসীর কৌতুহল। তবে এবারের নির্বাচনে এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কৌশলগত অবস্থান নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, আসনটিতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তহীনতা দলের জন্য এক ধরনের ‘নৈতিক পরাজয়’ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর এবার বিএনপি একচ্ছত্রভাবে নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছে। আওয়ামী শাসনামলে যখন রাজপথ ছিল উত্তপ্ত, তখন সুনামগঞ্জ জেলা কৃষক দলের সভাপতি আনিসুল হক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। নাজপথে ছিলন সরব।পুলিশি নির্যাতন ও জেল-জুলুম উপেক্ষা করে তিনি মাঠের লড়াইয়ে সক্রিয় ছিলেন। তার এই ত্যাগের মূল্যায়ন স্বরূপ দল প্রথমে তাকেই ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের কান্ডারী হিসেবে মনোনীত করে।
সুনামগঞ্জ জেলার ৫টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই নির্বাচনী এলাকায় ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪,৯১,৫৫৩ জন। বিশাল এই কর্মযজ্ঞে আনিসুল হক যখন দিনরাত পরিশ্রম করে নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই নাটকীয় মোড় নেয় দলীয় সিদ্ধান্তে। একই আসনে অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী কামরুজ্জামান কামরুলকে দ্বিতীয় মনোনয়ন দেয় দল।
একই আসনে দুই প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় সাধারণ ভোটার ও তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় উঠে সমালোচনার ঝড়।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে:
কামরুজ্জামান কামরুলকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এঁর স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডের পত্রটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর আনিসুল হকের একনিষ্ঠ কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বইছে তীব্র অসন্তোষ। তারা এই ঘটনাকে "গাছে তুলে মই সরিয়ে ফেলার" সাথে তুলনা করছেন। তাদের দাবি, যখন দলের দুঃসময় ছিল তখন আনিসুল হক মাঠে ছিলেন, আর এখন নির্বাচনের সুসময়ে তাকে কোণঠাসা করার চেষ্টা কোন ভাবেই প্রত্যাশিত ছিলনা।
এক নজরে সুনামগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকা:
বিএনপির দ্বৈতনীতির কারণে সুনামগঞ্জ -১ আসনে বিরাজ করছে চাপাক্ষোভ। ধানের শীষের একনিষ্ঠ সমর্থক হওয়ার পরও ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার মত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একটি অংশ। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ার চিন্তাভাবনাও করছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এডভোকেট জিয়াউর রহীম শাহিন বলেন, জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় কমিটি দল এবং দেশের স্বার্থে যখন যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন দলের নিবেদিতপ্রান নেতাকর্মীরা সে সিদ্ধান্ত দল এবং দেশের স্বার্থে মেনে নেওয়াই উচিত।
মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ফোন বন্ধ থাকায় আনিসুল হকের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।