প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৬, ৪:২৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ১৪, ২০২৬, ১২:০৬ পি.এম
নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট
নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট
ডেস্ক রিপোর্ট :
দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার না হওয়ার বিষয়টিকে সামনে এনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত করার আবেদন জানানো হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দায়ের করেন।
রিটের মূল কারণ ও উদ্বেগের জায়গাগুলো:
- বিপুল পরিমাণ লুণ্ঠিত অস্ত্র: রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে প্রায় ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট করা হয়। সরকার পুরস্কার ঘোষণা করার পরও এর একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
- প্রার্থী ও ভোটারদের জীবনের ঝুঁকি: ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরিফ উসমান হাদি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাটি উদাহরণ হিসেবে টেনে রিট আবেদনকারী বলেছেন, এই বিপুল অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় নির্বাচন রক্তক্ষয়ী হওয়ার চরম আশঙ্কা রয়েছে।
- সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন: আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে নির্বাচনের আয়োজন করা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের ‘জীবনের অধিকার’-এর পরিপন্থী।
- নির্বাচন কমিশনের উদ্বেগ: খোদ নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ নিজেই এর আগে নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন, যা রিটে তুলে ধরা হয়েছে।
এই রিট আবেদনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন:
১. মন্ত্রিপরিষদ সচিব
২. স্বরাষ্ট্র সচিব
৩. আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব
৪. নির্বাচন কমিশন সচিব
৫. পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)
৬. র্যাব মহাপরিচালক
সারকথা: রিট আবেদনকারীর দাবি, সরকার কিছু প্রার্থীর জন্য গানম্যানের ব্যবস্থা করলেও সাধারণ জনগণের জীবনের নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত নয়। তাই লুণ্ঠিত সব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের নিরাপদ পরিবেশ তৈরি সম্ভব নয় এবং সেই পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত রাখা প্রয়োজন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত