প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৬, ৫:৪০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ১৩, ২০২৬, ২:৪৬ এ.এম
সতর্কবার্তা ও আলোচনার প্রস্তাব: দ্বিমুখী অবস্থানে ইরান
সতর্কবার্তা ও আলোচনার প্রস্তাব: দ্বিমুখী অবস্থানে ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট :
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা এবং দেশের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন গণবিক্ষোভের মুখে এক কঠোর অথচ কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সম্প্রতি আলজাজিরা আরবিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামরিক প্রস্তুতির হুঁশিয়ারি:
আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ইরান যুদ্ধের জন্য মুখিয়ে নেই, তবে আক্রান্ত হলে তারা পিছু হটবে না। তার বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো হলো:
- শক্তি পরীক্ষা: যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সামরিক সক্ষমতা যাচাই করতে চায়, তবে ইরান তার দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত।
- উন্নত সক্ষমতা: গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উত্তেজনার সময় ইরানের যে প্রস্তুতি ছিল, বর্তমানে তা আরও বিশাল ও বিস্তৃত।
- তৃতীয় পক্ষকে সতর্কীকরণ: ইসরায়েলের স্বার্থ হাসিলের জন্য যারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
হুঁশিয়ারি দিলেও আরাগচি কূটনীতির পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেননি। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের বদলে "বুদ্ধিমানের মতো আলোচনার পথ" বেছে নেবে।
অভ্যন্তরীণ সংকট: বিক্ষোভ ও সরকারের অবস্থান:
যখন আন্তর্জাতিক মহলে যুদ্ধের দামামা বাজছে, তখন ইরান নিজের ঘরের ভেতরেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন দেশটির ৩১টি প্রদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে।
- বিক্ষোভের সূত্রপাত: দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে তেহরানের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট থেকে এই গণবিক্ষোভের জন্ম।
- আন্দোলনে সংঘাত: পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে "সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা" ঢুকে পড়েছে, যারা সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে।
- প্রেসিডেন্টের আশ্বাস: পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের অর্থনীতি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং বলেছেন, তার সরকার জনগণের মনের কথা শুনতে প্রস্তুত।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট: ট্রাম্পের হুমকি:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই এই বিক্ষোভের প্রতি জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি ইরান সরকার নিষ্ঠুরভাবে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে সামরিক অভিযান চালাতে পারে।
একদিকে অভ্যন্তরীণ গণবিক্ষোভে দেশ অচল, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার হুমকি—এই দুই সংকটের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ইরান এখন টিকে থাকার লড়াই লড়ছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত