প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৬, ৩:০৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ২, ২০২৬, ৬:৫৭ এ.এম
এলপিজি নিয়ে নৈরাজ্য: সরকার এক দিকে, বাজার অন্য দিকে, মানা হচ্ছে না সরকারী নির্দেশনা
এলপিজি নিয়ে নৈরাজ্য: সরকার এক দিকে, বাজার অন্য দিকে, মানা হচ্ছে না সরকারী নির্দেশনা
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসে রান্নার গ্যাসের খোঁজে নাভিশ্বাস উঠেছে রাজধানীর সাধারণ মানুষের। যেখানে বিইআরসি (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছিল ১,২৫৩ টাকা, সেখানে মাঠ পর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ভোক্তাদের ভোগান্তির খণ্ডচিত্র
খুচরা বাজারে এলপিজি এখন অনেকটা "সোনার হরিণ"। সাধারণ ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, এলাকাভেদে দামের পার্থক্য হচ্ছে আকাশপাতাল:
- মোহাম্মদপুর: কাওসার খান নামে এক বাসিন্দা ২৪ ডিসেম্বর সিলিন্ডার খুঁজতে গিয়ে হাহাকার দেখেন। দুই-তিন দোকান ঘুরে অবশেষে ১,৫০০ টাকায় একটি সিলিন্ডার পান।
- কল্যাণপুর: ৩০ ডিসেম্বর ফারজানা নীলা নামে এক ক্রেতাকে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে গুনতে হয়েছে ১,৮০০ টাকা। তিনি সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ টাকা বেশি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
- কাজীপাড়া (মিরপুর): সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে মিরপুরে। ৩১ ডিসেম্বর আসমা আখতার নামের এক নারী ২,১০০ টাকা দিয়েও গ্যাস পাননি। শেষ পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় ৮৪৭ টাকা অতিরিক্ত দিয়ে তাকে গ্যাস সংগ্রহ করতে হয়েছে।
বাজারের বর্তমান অবস্থা বনাম সরকারি নির্দেশনা
|
বিবরণ
|
সরকারি নির্ধারিত দাম (ডিসেম্বর)
|
বাজারে বিক্রয়মূল্য (গড়)
|
অতিরিক্ত আদায়
|
|
১২ কেজি এলপিজি
|
১,২৫৩ টাকা
|
কেন এই অস্থিরতা?
ক্রেতাদের অভিযোগ, দোকানিরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মজুত বাড়িয়ে রাখছেন। যখনই কোনো ক্রেতা জরুরি প্রয়োজনে আসছেন, তখনই আকাশচুম্বী দাম হাঁকানো হচ্ছে। পাড়ার ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় ডিলার—কোথাও সরকারি রেট চার্ট মানা হচ্ছে না।
"হঠাৎ এমন দাম বৃদ্ধি চিন্তা করা যায় না। সাধারণ মানুষের ওপর এভাবে বোঝা চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় বলে মন্তব্য করেছেন ভুক্তভোগীরা।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত