*ধানক্ষেত থেকে নিখোঁজ কিশোরের কঙ্কাল উদ্ধার : ভাঙ্গা কাঁচির সূত্র ধরে উন্মোচিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য*
স্টাফ রিপোর্টার:

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এর বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করা যাচ্ছে যে-
গত ২৯/০৯/২০২৫ খ্রি. তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ০৭.০০ ঘটিকার সময় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা মারজান মিয়া (১৫) নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে তার পিতা বিষয়টি থানায় অবহিত করলে ০১/১০/২০২৫ খ্রি. তারিখে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি রুজু করা হয়।
নিখোঁজের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর গত ১৪/১২/২০২৫ খ্রি. তারিখ দুপুর আনুমানিক ০১.৩০ ঘটিকার সময় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন সুরমা ইউনিয়নের রাউটিয়া বিল এলাকায় জনৈক আব্দুল মালেকের আমন ধানের জমিতে ধান কাটার সময় একটি মানুষের কঙ্কাল পাওয়া যায়। সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ রতন সেখ, পিপিএম এর নেতৃত্বে একটি চৌকস পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কঙ্কাল উদ্ধার করে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সুরতহাল সম্পন্ন করে। নিখোঁজের পরিবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কঙ্কালের পাশে প্রাপ্ত জলপাই রঙের গেঞ্জি ও নীল রঙের জার্সি প্যান্ট দেখে নিখোঁজ মারজান মিয়ার বলে শনাক্ত করেন। এছাড়াও ঘটনাস্থল তল্লাশিকালে একটি রক্তমাখা কাচির অর্ধেক অংশ উদ্ধার করা হয়, যা তদন্তের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে চিহ্নিত হয়। পরবর্তীতে উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং-২২, তারিখ- ১৬/১২/২০২৫খ্রিঃ, জিআর-৩৬৭/২০২৫, ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড হত্যা মামলা রুজু করা হয়।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জনাব এ বি এম জাকির হোসেন, পিপিএম মহোদয়ের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি চৌকশ তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তদন্ত চলাকালে ভৌত আলামত বিশ্লেষণ, পারিপার্শ্বিক তথ্য সংগ্রহ এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিবিড় তদন্ত পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সাথে একজন শিশুর সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানা এলাকা হতে আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু অভিযুক্ত কে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়।
পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদকালে অভিযুক্ত আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু ঘটনার সাথে তার জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে এবং মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে। পরবর্তীতে সে স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।
উল্লেখ্য, মামলাটি একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্ববহ হত্যাকাণ্ড হওয়ায় তদন্ত কার্যক্রম সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সতর্কতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। মামলার অন্যান্য দিক ও সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা যাচাইপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ অপরাধ দমনে বদ্ধপরিকর এবং এ ধরনের নৃশংস অপরাধের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সর্বদা তৎপর রয়েছে।